নেপাল বিপর্যয়ে গত দুই মাস ধরে নিখোঁজ স্বজন, চরম সমস্যায় পরিজনরা, ব্যাংকের কাজ, গ্যাস বুকিংয়ে দুর্ভোগ
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: নেপালে হড়পা বানে বিপর্যয়ের পর দুমাসের বেশি সময় অতিক্রান্ত। এখনও খোঁজ নেই এ রাজ্যের ৩২জনের। সেই থেকে দুশ্চিন্তা আর হতাশায় দিন কাটছে পরিবারগুলির। এর মধ্যেই নতুন করে সমস্যায় পড়েছে তারা। ব্যাংকের কাজ থেকে বেতন তোলা, কোনোটাই করতে পারছেন না বাড়ির লোকজন। এমনকি, গ্যাস বুকিংয়ের নম্বর পরিবর্তন করতে গেলেও করা যাচ্ছে না। সব ক্ষেত্রেই ডেথ সার্টিফিকেট চাইছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরকম চিত্র ধরা পড়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়। সমস্যায় পড়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন অনেকে। কিন্তু এখনও কোনো সুরাহা হয়নি বলেই দাবি। যেমন, নিখোঁজ থাকা এক শিক্ষিকার নামে বাড়ির গ্যাস বুকিং হতো। এখন গ্যাস বুকিং করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন তাঁর বাড়ির লোক। শিক্ষিকার স্বামী ওই নম্বরে আরও একটি সিমকার্ড তোলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তা পারেননি। আরেক শিক্ষিকার সংসার চলে মূলত তাঁরই বেতনের টাকায়। সেই টাকা যাতে কিছুটা তোলা যায়, তার জন্য বাড়ির লোক আবেদন করেছেন প্রশাসনের কাছে। এক্ষেত্রেও কাজের কাজ কিছু হয়নি।

Advertisement

ফলতার মিতালি মণ্ডল সরশুনার একটি স্কুলের  শিক্ষিকা। নেপাল বিপর্যয়ে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁর স্বামী প্রবীর মণ্ডল বলেন, ‘ব্যাংক লোন করে ফ্ল্যাট কেনা হয়েছিল। সামান্য কিছু টাকা বাকি আছে। স্ত্রীর নামে ঋণ নেওয়া। ব্যাংককে জিজ্ঞাসা করলাম, টাকা শোধ করে দিলে দলিল দিয়ে দেওয়া হবে তো? ওরা বলছে স্ত্রীর ডেথ সার্টিফিকেট না দিলে দলিল হস্তান্তর করা হবে না। এদিকে, স্ত্রীর ফোনের সঙ্গে গ্যাস বুকিংয়ের লিংক করানো। ফলে ওই নম্বরেই ওটিপি যাবে। এখন তো সেটা সম্ভব নয়। তাই মোবাইল পরিষেবার সংস্থাকে একই নম্বরের সিম দিতে বলা হলেও ওরা গা করেনি। সব দিক দিয়েই সমস্যায় আছি।’ ডায়মন্ডহারবারের সরিষার কেয়া প্রামাণিকের ভাই ধীরাজ রায় বলেন, ‘দিদির চাকরির বেতনে সংসার চলে আমাদের। আমরা মোট ৬ জন। আগস্ট পর্যন্ত বেতন হয়েছে। তারপর দুমাস মাইনে ঢোকেনি। ব্যাংকে পাশবই আপডেট করাতে গিয়ে জেনেছি। পুজোর আগে জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু এখনও কিছু হয়নি। বেতনের একাংশ যাতে তোলা যায়, সেই আরজিও করা হয়েছে। কালীপুজোর ছুটির পর একবার কথা বলব। টাকা না পেলে খুব সমস্যা হবে।’