নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: প্রতীক জল্পনার অবসান হতেই রেজিনগরে প্রচার অভিযানে ঝাঁপাল তৃণমূলের দুই শিবির। শুক্রবার দুপুরে কমিশন নির্দেশিকায় জানিয়েছে, মমতা শিবির লড়বে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে। তাদের প্রতীক হবে ফুটবল খেলোয়াড়। ঋতব্রতদের শিবিরের নাম হচ্ছে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। তারা লড়বে খাম প্রতীকে। এই খবর জানা মাত্রই কিছুটা স্বস্তি মেলে দুই শিবিরে। বহরমপুরের জেলা তৃণমূলের ভবনে বৈঠক সেরে বিকালেই প্রচারে নামেন গণতান্ত্রিক তৃণমূলের প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখ।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরই হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী গোলাম নবি আজাদ প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারও মনোনয়ন পেশের আগে থেকেই রেজিনগরে জনসংযোগ শুরু করেন। পিছিয়ে নেই বাম প্রার্থী মহম্মদ সাঈদ ও আরএসপির বিকাশচন্দ্র মিশ্রও। পাড়ার অলিগলি দাপিয়ে প্রচার করছেন কংগ্রেসেরও আব্দুল্লাহিল কাফি। একের পর এক প্রার্থীরা নির্বাচনের ময়দানে ঝাঁপালেও প্রতীক নিয়ে লড়াইয়ের জেরে তৃণমূলের যুযুধান দুই শিবির দলীয় কার্যালয় ও অফিসে বৈঠক করা ছাড়া তেমন প্রচারে নামতে পারছিলেন না। এদিন সেই জল্পনার অবসান হতেই দুই শিবির প্রচারে ঝাঁপায়।
রেজিনগরের দাদপুরে খাম চিহ্ন এঁকে দেওয়াল লিখলেন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সফিউজ্জামান। সঙ্গে ছিলেন জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার এবং স্থানীয় নেতারা। মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী অন্যান্য দিনের মতো শুক্রবার দুপুরে নমাজ পরে পার্টি অফিসে এসে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। নির্বাচনি প্রচার পরিকল্পনা সারেন। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথাও হয়েছে বলেও জানিয়েছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে হাতে তৈরি করেছিলেন ঘাসফুল বা জোড়াফুল প্রতীক। সেই প্রতীকে লড়ে তিনি তিনবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। আবারও নতুন প্রতীকে ও নামে লড়াই। এনিয়ে রবিউল সাহেব বলেন, বাংলার মানুষ যেটা গ্রহণ করবে, সেটাই আমাদের প্রতীক। মানুষের হৃদয়ে নতুন দল মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। যার প্রতীক ফুটবল খেলোয়াড়। বিজেপি সরকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এত ভয় পায় যে, জোড়াফুল প্রতীক কেড়ে নেওয়ার জন্য সব রকম চেষ্টা করেছে। কারণ ওরা জানে এই প্রতীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী লড়াই করলে এখানে বিজেপি জিততে পারবে না। এদিন রেজিনগর বিধানসভার রামপাড়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের তকিপুর এলাকায় পরিদর্শন ও নির্বাচনি জনসংযোগ সারে কংগ্রেস প্রার্থী কাফি। বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের মতামত, সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন। এদিন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার শক্তিপুরে দলীয় কার্যালয়ে কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের পর বিভিন্ন এলাকায় হেঁটে জনসংযোগ সারেন। শাখারভবাবু বলেন, মানুষ মুখিয়ে আছে। আমরা জিতছি। এবার কোনো সম্প্রদায়ের ভাগাভাগিতে ভোট নয়। এবার উন্নয়নের ভোট। রেজিনগরের মানুষ জানে সরকার কীভাবে তাদের পাশে আছে। তাই নতুন সরকারের সঙ্গে থাকতে তারা বিজেপিকেই ভোট দেবে। যেখানেই যাচ্ছি হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ ভিড় করছে। যে কাজগুলি করব, সেগুলির কথা মানুষকে জানাচ্ছি। কথা দিয়ে কথা রাখার নাম বিজেপি। নিজস্ব চিত্র