


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাক কাণ্ড! রেজিস্ট্রার সৌভাত্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির চিঠি আসার পরই তাঁকে ‘রিলিজ’ করে দিলেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অয়ন ভট্টাচার্য। ৩১ জানুয়ারি রেজিস্ট্রারের মেয়াদ শেষ হয়। শুক্রবারই তাঁর চাকরির মেয়াদ ছ’মাস বৃদ্ধির চিঠি পাঠায় উচ্চশিক্ষা দপ্তর। বলা হয়, ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই তাঁর চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সৌভাত্রবাবুকে জানানো হয়, লোকনাথ চক্রবর্তীকে নতুন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। আর তাঁকে অপসারণ করা হচ্ছে।
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩৩ বছর অধ্যাপনা করেছেন সৌভাত্রবাবু। তারপরে আধিকারিক হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় অসম্মানিত বোধ করছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘বিষয়টা সরকারকে জানিয়েছি।’ যদিও এই পরিবর্তনে অনিয়মের কিছু দেখছেন না উপাচার্য। তিনি বলেন, ‘আগের উপাচার্য যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তার ভিত্তিতেই শুক্রবার উচ্চশিক্ষা দপ্তর তাঁর মেয়াদবৃদ্ধির চিঠি পাঠিয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত হয়েছিল অনেক আগেই। নিয়ম অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাসোশিয়েট প্রফেসর বা প্রফেসর থাকলে তাঁকে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেওয়া যায়। সৌভাত্রবাবু বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা আধিকারিক ছিলেন। উপাচার্য হিসেবে আমি সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককেই রেজিস্ট্রার হিসেবে চেয়েছি। সেই এক্তিয়ার আমার রয়েছে।’ তবে, লোকনাথবাবুকে রেজিস্ট্রার করা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে। কারণ, তিনি ওয়েস্ট বেঙ্গল এডুকেশন সার্ভিসের অধ্যাপক। সংস্কৃত কলেজে নিযুক্ত। তাই তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে গ্রাহ্য করা যায় না। যদিও এই অভিযোগও খারিজ করেছেন উপাচার্য। তিনি বলেন, ‘আমাদের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোটি আলাদা। কলেজের অধ্যাপকরাও বিশ্ববিদ্যালয়েরই অধীন। এক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়নি।’ একইসঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘প্রশাসনিক সুবিধার জন্যই এই সিদ্ধান্ত। এটা ব্যক্তিগতভাবে সৌভাত্রবাবুকে ডেকে বুঝিয়েছি। তিনিও বুঝেছেন। তাই তিনি অপমানিত হয়েছেন বলে মনে করি না।’