নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রবিবার হাবড়ায় একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। হাবড়া হাসপাতালের অনুষ্ঠান মঞ্চে এদিন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, এবার হয়তো আমাকে হাবড়া থেকে অন্যত্র চলে যেতে হবে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যেন কেউ এক টাকাও না নেয়। স্বাভাবিকভাবে তৃণমূলের হেভিওয়েট বিধায়কের এই মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে চর্চা। জানা গিয়েছে, তৃণমূলের দুঃসময়ে অবিভক্ত উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তৃণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বালুকে জেলার দায়িত্ব দেন একদা। তিনি বাম আমল থেকেই বিধায়ক ছিলেন তৃণমূলের। ২০০১ ও ২০০৬ সালে গাইঘাটা থেকে বিধানসভায় নির্বাচিত হন জ্যোতিপ্রিয়। এরপর ২০১১ সাল থেকে টানা তিনবার হাবড়ার বিধায়ক। বাম জমানার পতনের পর ২০১১ ও ২০১৬ সালে খাদ্যমন্ত্রী এবং ২০২১ সালে বনমন্ত্রী হন তিনি। রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হলে মন্ত্রিত্ব যায় বালুর। সম্প্রতি হাবড়ায় তৃণমূলের প্রার্থী নিয়ে চর্চা চলছে। রবিবার হাবড়ায় একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ ও সুবিধা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এদিন তিনি দু’টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্স, হাবড়া হাসপাতালে একটি জেনারেটর ও নতুন বিল্ডিংয়ের সামনে হাইমাস্টের উদ্বোধন করেন। এছাড়াও তাঁর হাত দিয়ে সিসি ক্যামেরার মনিটর, হাসপাতাল ও বিভিন্ন স্কুলে সিলিং ফ্যান, লাইট, ঠান্ডা পানীয় জলের মেশিন, হাবড়া উদ্বাস্তু প্রাথমিক শিক্ষা নিকেতন স্কুলের সংস্কারের জন্য অর্থ সাহায্য প্রদান করা হয়। মঞ্চে বক্তব্য রাখার সময় কিছুটা আক্ষেপের গলায় বালু বলেন, ‘আমি গাইঘাটা থেকে হাবড়ায় এসে প্রার্থী হয়েছিলাম। হয়তো এটাও হতে পারে, হাবড়া থেকে আমাকে অন্যত্র চলে যেতে হবে। গাইঘাটা ও হাবড়ায় প্রচুর কাজ হয়েছে। তবে, যেখানেই থাকি না কেন, আপনাদের পাশে থাকব। এরপর সুর বদলে বালুর দাবি, আমি থাকি বা না থাকি, কোনো ব্যবসায়ীর কাছ থেকে যেন এক টাকাও চাঁদা না নেওয়া হয়। গাইঘাটাতেও এটা করে দিয়ে এসেছি। চাঁদার প্রয়োজন হলে দলের নেতা-কর্মীরা নিজেদের পকেট থেকে টাকা দেবেন। ব্যবসায়ীর উৎপাত করা যাবে না। এরপর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাঁর ব্যাখ্যা, ‘হাবড়ায় বিপুল ভোটে তৃণমূল জিতবে। আমাকে দল যেখানে দাঁড়াতে বলবে, সেখানেই দাঁড়াব।’



