


সুব্রত ধর, ফাঁসিদেওয়া: পূর্বে বাংলাদেশ। পশ্চিমে নেপাল। পাশে প্রতিবেশী রাজ্য বিহার। এহেন আন্তর্জাতিক সীমান্ত ও আন্তঃরাজ্য সীমানা ঘেরা ফাঁসিদেওয়া বিধানসভা কেন্দ্র। মহানন্দা ও মেচি নদীনির্ভর এই এলাকার আনারস জগৎজোড়া। সবজি খেত ও চা বাগানও রয়েছে। এবার খানে জোড়াফুল ফোটাতে ‘ঘরের মেয়ে’ ইমেজ নিয়ে আদিবাসী ও সংখ্যালঘু মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন রীনা টোপ্পো এক্কা। তিনি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। এসআইআর, রান্নার গ্যাস সংকট, পদ্মের দ্বন্দ্ব তাঁর অস্ত্র। সেইসঙ্গে বামফ্রন্টের ভোট ফেরাতে ময়দানে সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের প্রার্থী সুমানতি এক্কা। এতেই ‘বিপদ’ দেখছেন বিদায়ী বিধায়ক তথা বিজেপি প্রার্থী দুর্গা মুর্মু। একইসঙ্গে তিনি দলীয় কোন্দল ও নিজের ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন সামাল দিতে গিয়ে কার্যত বেকায়দায়।
এই কেন্দ্রে আটজন প্রার্থী হলেও মূল লড়াই তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। এখানে জোড়াফুলের প্রার্থী রীনা। ঘোষপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কমলা বাগানে বাড়ি। তিনি নিজেকে ঘরের মেয়ে হিসেবে ভোটের ময়দানে তুলে ধরছেন। ভোটে জেতার পর অঞ্চলে অঞ্চলে বিধায়কের অফিস খুলে উন্নয়নের স্বাদ পালটে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
ফাঁসিদেওয়ার বাসিন্দা রবিউল শেখ বলেন, পাঁচ বছরে বিধায়ককে দেখাই যায়নি। কিন্তু পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হিসাবে প্রচুর কাজ করেছেন রীনা। ভোটে জেতার পর দুয়ারে বিধায়ক কর্মসূচি চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নেপাল সীমান্তবর্তী পানিট্যাঙ্কির উর্মিলা মার্ডি বলেন, এসআইআর ও রান্নার গ্যাস নিয়ে প্রচুর হয়রান হতে হয়েছে। তাই এবার ভোটটা ভেবেই দেব।
তৃণমূল প্রার্থী বলেন, রাজ্য সরকারের উন্নয়ন ও এসআইআরকে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। বিধায়কের ভূমিকা ও বিজেপির কোন্দলে বাড়তি সুবিধা মিলছে। এবার জোড়াফুল ফুটবেই।
ফাঁসিদেওয়ার সাতটি ও খড়িবাড়ির চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে এই বিধানসভা। নকশাল আন্দোলনে এখানকার আদিবাসী সম্প্রদায়ও শামিল হয়েছিল। তাই এবার বামেরা প্রার্থী করেছে সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সুমানতিকে। ফাঁসিদেওয়া বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে রঞ্জন দাস বলেন, চা শ্রমিকদের বঞ্চনা, আনারস প্রক্রিয়াকরণ শিল্প না হওয়াকে ইস্যু করেছে বামফ্রন্ট। তাই এবার রাম থেকে ফিরতে পারে বাম ভোট। কাজেই সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের প্রার্থী ফ্যাক্টর। এবার প্রাক্তন বিধায়ক সুনীল তিরকির মেয়ে নবনীতা তিরকিকে প্রার্থী করেছে কংগ্রেস। সিপিআই (এমএল) লিবারেশন ও কংগ্রেস দুই দলের প্রার্থীর দাবি, এবার এখানে তাঁদের ফলাফল ভালো হবে।
২০১১ সালে তৃণমূল সমর্থনে এখানে জয়ী হয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী সুনীল তিরকি। ২০১৬ সালে তিনি সিপিএমের সমর্থনে জয়ী হন। একুশের নির্বাচনে এখানে ফোটে পদ্ম। সেই ভোটে এখানে বিজেপি ৫০.৮৯ শতাংশ এবং তৃণমূল ৩১.৫৫ শতাংশ ভোট পায়। এই কেন্দ্রের খড়িবাড়িই পদ্মের ঘাঁটি। একুশের ভোটের পাশাপাশি পঞ্চায়েতেও তাদের ফল ভালো হয়। এই ব্লক থেকেই মহকুমা পরিষদের একটি এবং পঞ্চায়েতের কয়েকটি আসন তারা দখল করে। কিন্তু এখানেই মণ্ডল কমিটির ক্ষমতা দখল নিয়ে তাদের কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে।
শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের বিরোধী দলনেতা অজয় ওরাওঁ বলেন, এখানে দলের কোনো সমস্যা নেই। সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে ময়দানে নেমেছেন। বিজেপি প্রার্থী বলেন, তৃণমূল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেই সুবিধা করতে পারবে না। এবারও ফুটবে পদ্ম। • প্রচারে রীনা টোপ্পো এক্কা। - নিজস্ব চিত্র।