নয়াদিল্লি: দিনের অনেকটা সময় হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে কাটে আম জনতার। শুধু টাইমপাস নয়, কাজের ফাঁকে এক-আধটা রিলস দেখে মনকে হালকা করে নেওয়া এখন অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। কেউ কেউ তো রিল সেভ করে রেখে বারবার দেখেন। আবার নিজের দেওয়া স্টোরি ক’জন দেখলেন, সেই হিসাব রাখা এখন শুধু জেন জি নয়, আট থেকে আশির বিশেষ পছন্দের কাজ। এবার এই অভ্যাসে ছেদ টানার সময় হল বলে। কারণ, রিলস বা স্টোরি দেখার আসক্তির জন্য এবার গুনতে হবে গাঁটের কড়ি। সৌজনে মেটার নতুন সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান!
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের মালিকানা সংস্থা মেটার হেড অব প্রোডাক্ট নাওমি গ্লেইট বুধবারই বিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির ‘প্লাস’ সংস্করণ চালুর কথা ঘোষণা করেছেন। নতুন পেইড পরিষেবার আওতায় ব্যবহারকারীরা ফেসবুক প্লাস, ইনস্টাগ্রাম প্লাস এবং হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। তাতে বিশেষ কিছু আকর্ষণীয় ফিচার থাকবে, যা সাধারণ ফ্রি ব্যবহারকারীরা পাবেন না। ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুক প্লাসের জন্য দিতে হবে মাসে ৩.৯৯ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৮০ টাকা)। হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রে একটু কম ২.৯৯ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৮৫ টাকা)। তবে অ্যাপগুলির ফ্রি ভার্সনও আপাতত চালু থাকছে।
ইনস্টাগ্রাম প্লাসের ক্ষেত্রে আপলোড করা স্টোরি বা পোস্ট কেউ কতবার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছেন, তা গ্রাহক দেখতে পাবেন। একই রিল বারবার দেখার ব্যাপারে কোনো নির্ধারিত সীমা থাকবে না। চাইলে কোনো বিশেষ স্টোরিকে ২৪ ঘণ্টার বেশি রাখা যাবে। এছাড়া ‘স্পটলাইট! স্টোরি ও অগুন্তি অডিয়েন্স তালিকাও তৈরির সুবিধা। সঙ্গে ‘সুপার হার্ট’ রিঅ্যাকশন অপশন। ফেসবুক প্লাসেও ইনস্টাগ্রামের মতো ২৪ ঘণ্টার বেশি স্টোরি রাখা যাবে। পাশাপাশি ফেসবুক প্রোফাইলকে আরও আকর্ষণীয় করতে মেগা পিন বা এনিমেটেড রিঅ্যাকশনের নতুন সেট পাবেন গ্রাহকরা। ফলোয়ার্স ফিড এড়িয়েও করা যাবে পোস্ট। হোয়াটসঅ্যাপ প্লাসের ক্ষেত্রে চ্যাট ব্যাকগ্রাউন্ডের পাশাপাশি গোটা অ্যাপের মূল থিমটি নিজের পছন্দ মতো রঙে রাঙানো যাবে। এছাড়া সাধারণ হোয়াটসঅ্যাপে মাত্র তিনটি চ্যাট পিন করে রাখা যায়। হোয়াটসঅ্যাপ প্লাসে একসঙ্গে ২০টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ চ্যাট পিন করে রাখা যাবে। তাছাড়া মেসেজ বা কলের জন্য কাস্টমাইজ রিংটোন বা নোটিফিকেশন সাউন্ড ব্যবহার করা যাবে। নাওমি আরও জানিয়েছেন, বিজনেস, ক্রিয়েটরস এবং আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ভিত্তিক পণ্যের ক্ষেত্রেও সাবস্ক্রিপশন ফি নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে সংস্থা।
মেটার মূল রোজগার বিজ্ঞাপন থেকে। আর সেই বিজ্ঞাপন থেকে প্রাপ্ত অর্থের একটা অংশ দেওয়া হয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের। তারাও ভিউয়ের লোভে আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি করে থাকে। অনেক দেশই এই সমস্ত কনটেন্ট এবং প্রাইভেসি নিয়ে কড়াকড়ি শুরু করেছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিককালে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের উপর বিপুল লগ্নি করেছে মার্ক জুকেরবার্গের সংস্থা। বিপুল ব্যয়ে তৈরি হয়েছে ডেটা সেন্টার। এই অবস্থায় লগ্নিকারীরা দ্রুত অর্থ ফেরতের জন্য চাপ দিতে শুরু করেছে বলে খবর। তাই শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভর না করে গ্রাহকদের থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য এই ‘প্লাস ফিচার্স’ ঘোষণা। নতুন সাবস্ক্রিপশন ফি ঘোষণার পরেই মেটার শেয়ার দর অনেকটাই বেড়েছে।