


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উৎসব শেষ হয়েও হল না শেষ। দশমীর তিনদিন পরও দস্তুরমতো পুজোর আমেজ কলকাতায়। রেড রোডের দুর্গা কার্নিভাল মাতিয়ে রাখল পুজো শেষের শরৎ। অনুষ্ঠান আয়োজনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে চলা সরকার। প্রায় একশো পুজো কমিটি নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জানান দিল, ‘বাংলা বিশ্বসেরা’। রেড রোডে উড়ল জাতীয় পতাকা। কার্নিভালে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে সম্মান জানাল দেশমাতৃকাকে।
রবিবার বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার পথ ধরছে ঘড়ির কাঁটা। রেড রোড জমজমাট। রঙিন। উৎসবমুখর। শুরু হল এ বছরের কার্নিভাল, দুর্গাপ্রতিমা নিরঞ্জনের ভ্রাম্যমাণ অনুষ্ঠান। নৃত্যশিল্পী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর সহযোগীদের নৃত্য পরিবেশনা দিয়ে আরম্ভ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা ও সুরে ‘শরৎ আকাশের নীল গগনে, মা এসেছে দুর্গা অঙ্গনে’ গানটি গাইলেন সঙ্গীতশিল্পী শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডোনাদেবী গানের তালে পায়ে পায়ে ছন্দ মেলালেন। কার্নিভালে ভিড় করে আসা দর্শকরা সঙ্গত করলেন করতালিতে। পরিক্রমা পথে সবার আগে বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন। এবার তাদের পুজোর ৭৫ বছর। তাসা, কাঁসর-ঘণ্টা, ঢোল সহযোগে তাদের অনুষ্ঠান আকৃষ্ট করল সবাইকে। এরপর দক্ষিণের বেহালা নূতন দল থেকে উত্তরের হাতিবাগান সর্বজনীন। দুর্গামূর্তি সামনে রেখে উপস্থাপনা গান ও নাচের। এল শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব। তাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পা মেলালেন চলচ্চিত্র জগতের খ্যাতনামা শিল্পীরা। অপরাজিতা, অঙ্কুশ, সোহম ছিলেন রাস্তায়। মুখ্যমন্ত্রীর পাশে তখন জুন মালিয়া, লাভলি মৈত্র, যিশু সেনগুপ্ত, পরমব্রতরা। একটু বাদে এলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। সঙ্গে একাধিক টলি তারকা।
সুরুচি সংঘের এবারের পুজোর থিম ‘আহুতি’। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্ম বলিদানের কথা তুলে ধরেছিল দক্ষিণ কলকাতার এই সেরা পুজো। যাঁরা মণ্ডপে আসতে পারেননি তাঁদের জন্য রেড রোডে থিমের রেপ্লিকা তুলে ধরে তারা। আর একটি নামকরা পুজো চেতলা অগ্রণীর পরিবেশনাও মন কেড়েছে সকলের। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলার অস্মিতা রক্ষার বার্তা দিয়েছে তারা। মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ার ক্লাব কালীঘাট মিলন সংঘ জাতীয় পতাকা নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে। কার্নিভালে ঢাকের তালে নাচ যেমন হয়েছে তেমনই হয়েছে গুজরাতিতের ডান্ডিয়া বা শিখদের ভাঙড়া নৃত্য। সবকিছু মিলিয়ে আন্তর্জাতিক কার্নিভালগুলির মানচিত্রে জায়গা করে নেওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্গাপুজোর এই বিশেষ শোভাযাত্রার মূল সুর ছিল—‘বাংলা হল মিলনক্ষেত্র’।
তবে সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে রবিবারের রেড রোড থেকে দিল্লি লক্ষ্য করে তোলা হয়েছে আওয়াজ, ‘বাংলা ভাষার সম্মানরক্ষার্থে লড়াই চলছে ও চলবে। বাংলার অসম্মান মানছি না, মানব না।’ বাংলার বরেণ্য মনীষীদের ছবি সামনে রেখে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন একাধিকবার হয়েছে কার্নিভালে। প্রসঙ্গত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দুর্গা অঙ্গন’ পুজোর অ্যালবামের জনপ্রিয়তম গানটি হল, ‘দেশের সেরা বাংলা, বিশ্বসেরা বাংলা’। গানের কথা ও সুর মমতার। সেটি গেয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী মনোময় ভট্টাচার্য। সেই গান এদিন মাতিয়ে দিয়েছে রেড রোড। পাশাপাশি দেখা গিয়েছে পুজোর ব্যানারে লেখা, ‘আমি বাংলায় বলছি।’ আর আওয়াজ উঠেছে, ‘লড়বে বাংলা, জিতবে বাংলা।’