Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাড়ছে রেডপান্ডা, সমীক্ষার ভাবনা, চলছে প্রস্তুতি

প্রায় একবছর ধরে নেওড়াভ্যালির জঙ্গলে ধরা পড়ছে না র‌য়্যালবেঙ্গল টাইগারের ছবি। ফলে ট্র্যাপ ক্যামেরার অবস্থান বদলের ভাবনা বনদপ্তরের।

বাড়ছে রেডপান্ডা, সমীক্ষার ভাবনা, চলছে প্রস্তুতি
  • ১৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: প্রায় একবছর ধরে নেওড়াভ্যালির জঙ্গলে ধরা পড়ছে না র‌য়্যালবেঙ্গল টাইগারের ছবি। ফলে ট্র্যাপ ক্যামেরার অবস্থান বদলের ভাবনা বনদপ্তরের। তবে বাঘের দেখা না মিললেও নেওড়ায় রেডপান্ডার সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে বলে দাবি বনদপ্তরের। প্রায় ১৫৯ বর্গকিমি এলাকাজুড়ে থাকা নেওড়ার জঙ্গল রেডপান্ডার আদর্শ বিচরণক্ষেত্র। বর্তমানে তারা ঠিক কী পরিস্থিতিতে রয়েছে, তা জানতে সমীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বনদপ্তরের তরফে। কীভাবে সেই সমীক্ষা হবে, এখন তারই প্রস্তুতি চলছে। শীঘ্রই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন গোরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের ডিএফও দ্বিজপ্রতিম সেন।  

Advertisement

২০১৭ সালের ১৯ জানুয়ারি ভোরে লাভা থেকে কিছুটা দূরে পেডংয়ের রাস্তায় আনমোল ছেত্রী নামে এক গাড়িচালক প্রথম নিজের মোবাইলে বাঘের ছবি বন্দি করেন। ওই ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায়। এরপরই ১০ হাজার ফুট উঁচুতে নেওড়ার জঙ্গলে সত্যিই বাঘ আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তড়িঘড়ি ট্র্যাপ ক্যামেরা বসায় বনদপ্তর। প্রথম পর্যায়ে বসানো হয় চারটি ট্র্যাপ ক্যামেরা। তাতে ওই বছরের ২৩ জানুয়ারি সরকারি খাতায় প্রথম নেওড়ার জঙ্গলে বাঘের উপস্থিতি লিপিবদ্ধ হয়। এরপর অবশ্য ওই বছরেই ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং পরের বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারি এবং ২০১৯ সালে বনদপ্তরের বসানো ক্যামেরায় বেশকিছু ছবি ধরা পড়ে। সেসব ছবির উপর ভিত্তি করে বনদপ্তর জানিয়ে দেয়, নেওড়ার জঙ্গলে এক নয়, একাধিক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে একদিকে যেমন বাড়ানো হয় নেওড়ার জঙ্গলের নিরাপত্তা, তেমনই বাড়ানো হয় ট্র্যাপ ক্যামেরার সংখ্যাও। ওই ক্যামেরায় ২০২২ ও ২০২৪ সালে বাঘের ছবি ধরা পড়েছে। যদিও গত প্রায় একবছর ধরে নেওড়ার জঙ্গলে বসানো ক্যামেরায় একটিও বাঘের ছবি ধরা না পড়ায় কিছুটা হলেও চিন্তায় বনদপ্তর। 

এনিয়ে গোরুমারার ডিএফও দ্বিজপ্রতিম সেন বলেন, নেওড়ার জঙ্গলে ইতিপূর্বে একাধিকবার রয়্যালবেঙ্গল টাইগারের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু যে কোনও কারণেই হোক, প্রায় একবছর ধরে নেওড়ার জঙ্গলে বসানো ট্র্যাপ ক্যামেরায় বাঘের ছবি ধরা পড়ছে না। সেক্ষেত্রে ক্যামেরার অবস্থান বদল নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে। বর্ষা মিটলে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নেওড়াভ্যালির একদিকে সিকিমের প্যাংগোলাখা অভয়ারণ্য। অন্যদিকে ভুটানের রিজার্ভ ফরেস্ট। বনদপ্তর সূত্রে খবর, বিশেষ করে শীতের সময় রয়্যালবেঙ্গল টাইগার ভুটান থেকে নেওড়ার জঙ্গলের ভিতর দিয়ে সিকিম পর্যন্ত ঘোরাফেরা করে। প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়লে অনেক সময় নেওড়ার নীচের দিকে নেমে আসে বাঘ। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যানের ৬ মাইল এলাকায় বসানো বনদপ্তরের ট্র্যাপ ক্যামেরায় একাধিক বাঘের ছবি ধরা পড়ে। যদিও বনদপ্তর সূত্রে খবর, শুধু শীতে নয়, বর্ষাতেও নেওড়ার জঙ্গলে বাঘের উপস্থিতি টের পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু বেশ কিছুদিন হল ওই জঙ্গলে বসানো ট্র্যাপ ক্যামেরায় রয়্যালবেঙ্গলের ছবি ধরা পড়ছে না। কেন এমনটা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে বর্ষা মিটলেই ট্র্যাপ ক্যামেরার অবস্থান বদল করা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে বনদপ্তরের অন্দরে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ