সরকারি দপ্তরে এক লক্ষের নিয়োগ ৮ মে’র মধ্যে সম্পূর্ণ হবে: মুখ্যমন্ত্রী
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী ৮ মে’র মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে এক লক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে চাকরিপ্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্ন সভাঘরে সমবায় দপ্তরের নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান অনিল ভার্মাকে পাশে বসিয়ে এই ঘোষণা করেন তিনি। একইসঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (ডিএ) আরও চার হাজার কোটি টাকা আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়া হবে বলেও এদিন ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, ৫ ফেব্রুয়ারির রায়ের পরে ন’মাস কেটে গেলেও বকেয়া ডিএ না মেটানো নিয়ে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় রাজ্যকে। তার একদিনের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর এই ডিএ ঘোষণা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরে ৬৩,৪৯৬টি নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬০,৮৩৮টি স্থায়ী পদ। যার মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর সংখ্যা ৩৩,৪০৯। পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র দপ্তরে ১২,১৪৭, গ্রাম পঞ্চায়েতে ৭,১১৯টি পদ রয়েছে। ইতিমধ্যে ১০,২৩৩ জন পুলিশ কনস্টেবল এবং ১৫২ জন সমবায় পরিদর্শককে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও মেধাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পিএসসি, স্কুল সার্ভিস কমিশন, পুলিশ নিয়োগ বোর্ড এবং স্টাফ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড স্বাধীনভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে। সরকারের কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। সংরক্ষণের নিয়ম এবং ১০০ পয়েন্ট রোস্টার মেনেই নিয়োগ হবে। আগামী ৮ মে ২০২৭-এর মধ্যে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী-সহ বিভিন্ন পদে এক লক্ষের বেশি নিয়োগ সম্পন্ন করাই সরকারের লক্ষ্য। এদিন সকালে পঞ্চায়েত দপ্তরে তিনি জানিয়েছেন, কর্মী সংকট মেটাতে ৭২০০ স্থায়ী কর্মী নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগের জন্য বিধি সংশোধনে বিশেষ বিধানসভা অধিবেশন বসবে। পঞ্চায়েতে এক হাজার চুক্তিভিত্তিক কর্মী নেওয়ার হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
বকেয়া ডিএ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মেনে মোট ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ইতিমধ্যেই আট হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি চার হাজার কোটি টাকা ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়া হবে। 
এদিকে, রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশনের কাজ শুরু হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত আইএএস নবীন প্রকাশের নেতৃত্বে। চলতি অর্থবর্ষের মধ্যে কমিশনের সুপারিশ হাতে এলে এই অর্থবর্ষেই তা কার্যকর করা হবে বলেও তিনি জানান।