


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দপ্তরে হাজিরা দিলেন বিধায়ক জীবন কৃষ্ণের পিসি মায়া সাহা। সাঁইথিয়ার ন’নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার মায়াদেবীর বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে বিধায়কের সঙ্গে তাঁর লেনদেনের হদিশ পান তদন্তকারীরা। সেই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বৃহস্পতিবার তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়। সেই মতো এদিন বেলা এগারোটা নাগাদ হাজির হন ইডি দপ্তরে। ঢোকার সময় তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে যান দুর্নীতির টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে নেই। তিনি কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁদের ৪০ বছরের পারিবারিক ব্যবসা থেকেই যাবতীয় আয়। সম্পত্তির যাবতীয় নথি তিনি নিয়ে এসেছেন। সূত্রের খবর, সিবিআই কর্তারা সম্পত্তি কেনাবেচার বিভিন্ন নথি তুলে ধরেন তাঁর সামনে। তাঁরা জানতে চান, এগুলি কেনার জন্য টাকা তিনি কোথা থেকে পেয়েছিলেন। সূত্রের খবর, আয়-ব্যয়ের নথি তুলে ধরে মায়াদেবী তদন্তকারীদের জানান, দুর্নীতির টাকায় তিনি কোনও সম্পত্তি করেননি। আয়কর রিটার্নে তাঁর আয়ের উৎস স্পষ্ট বলা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাঁকে আবার জেরার জন্য ডাকা হতে পারে বলে খবর।
এদিকে বিধায়কের আয়-ব্যয়ের নথি পরীক্ষা করতে গিয়ে ইডি আধিকারিকদের নজরে এসেছে, প্রতি বছর সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়াচ্ছিলেন জীবনকৃষ্ণ। বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার কেনার পাশাপাশি মিউচ্যুয়াল ফান্ডেও বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করছিলেন। মাসে যার পরিমাণ কয়েক লক্ষ টাকায় পৌঁছছে। তদন্তকারীদের প্রশ্ন, একজন স্কুলের শিক্ষক কীভাবে এত টাকা পাচ্ছিলেন! তিনি বার্ষিক যে পরিমাণ আয় করেন তাই নিয়ে এই বিপুল পরিমাণ সঞ্চয় সম্ভব নয়। তাহলে এত টাকা কোথা থেকে পাচ্ছিলেন জীবনকৃষ্ণ? বিধায়ককে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বেশিরভাগ সময় চুপ করে থেকেছেন। আবার কখনও উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন। কেন্দ্রীয় এজেন্সির আধিকারিকরা অনুমান করছেন, এই বিনিয়োগের পুরো টাকাই নিয়োগ দুর্নীতি থেকে আসা। তা না হলে স্বাভাবিক নিয়মে বিধায়কের পক্ষে এত টাকা জমানো সম্ভব নয়। তিনি যে সমস্ত জায়গায় বিনিয়োগ করেছিলেন, সেখান থেকে তথ্য চেয়েছেন তদন্তকারী অফিসাররা। একইসঙ্গে তাঁরা জেনেছেন, বিভিন্ন ব্যবসায় বেনামে টাকা ঢেলেছিলেন বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ। বিধায়ক তাঁর পরিচিত ব্যবসায়ীদের ব্যবসায় এই টাকা খাটাচ্ছেন বলে দাবি ইডির। যে সমস্ত জায়গায় টাকা খাটছে, তার নাম হাতে এসেছে এজেন্সির। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলির আধিকারিকদের ডাকা হচ্ছে বলে খবর।