সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: শ্রাবণের তৃতীয় সোমবার রেকর্ড ভিড় হল তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলায়। গত সোমবারও তারকধামে ভক্তদের ঢল নেমেছিল। কিন্তু এদিনের সমাগম তাকে তুড়ি মেরেছে অনায়াসে। কয়েক লক্ষ মানুষের ভিড় সামলাতে নাজেহাল হতে হয়েছে প্রশাসনকে। রবিবার থেকেই পুণ্যার্থীদের ঢল ছিল মন্দিরমুখী।
তারকনাথের মন্দিরে পৌঁছানোর অনেক আগেই তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালের সামনে ছিল পুণ্যার্থীদের বিশাল লাইন। প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়ত চিকিৎসার জন্য লাইন দিয়েছেন ভক্তরা। কাছে গিয়ে দেখা গেল, হাসপাতালের পাশে একটি গাছের তলায় শিব মূর্তিতে জল ঢালছেন পুণ্যার্থীরা। তাঁরা আর ভিড় ঠেলে মূল মন্দিরে যেতে পারেননি। প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে পুণ্যার্থীদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে বেগ পেতে হয় প্রশাসনকে। মন্দির থেকে হাসপাতালমুখী রাস্তার পুরোটাই ছিল ভিড়ে ঠাসা।
হুগলি জেলা পুলিশ ‘গ্রিন চ্যানেল’ তৈরি করে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শ্রাবণী মেলার তৃতীয় সপ্তাহে প্রচণ্ড গরম, ভিড়ের চাপ ও ক্লান্তির কারণে কয়েকজন পুণ্যার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা ও অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু মন্দিরমুখী জনতার বিপুল সমাহারের কারণে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা ও অক্সিজেন দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। শেষমেশ হুগলি গ্রামীণ জেলা পুলিশ নিমেষে ভিড়ের মধ্যে একটি ‘গ্রিন চ্যানেল’ তৈরি করে অক্সিজেন ও জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও নানা ধরনের মডেল নিয়ে তারকেশ্বরে শিবের মাথায় জল ঢালতে আসেন ভক্তরা। এবার নজরকাড়া মডেলগুলির মধ্যে ছিল
তারকেশ্বরের মন্দিরের আদলে তৈরি চাকা লাগানো বাঁক, কলকাতা পুলিশের প্রিজন ভ্যানে ড্রাইভার সেজে নন্দী মহারাজ, মহাদেব, জগন্নাথ, নরসিংহ, পুরীর মন্দির, মহাকালেশ্বর সহ একাধিক মূর্তি। রেলের পক্ষ থেকে এদিন একাধিক স্পেশাল ট্রেন ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে একাধিক স্পেশাল বাস চালানো হয়। যাতে পুণ্যার্থীরা জল ঢালার পর দ্রুত তাঁদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে পারেন।