নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: নিজেকে ইডি আধিকারিক দাবি করে এক ঠিকাদারকে ফোন করেছিলেন একটি এনজিওর কর্তা। ওই ঠিকাদারের থেকে এক কোটিরও বেশি টাকা আদায় করেন ভয় দেখিয়ে। এবার সেই ভুয়ো ইডি আধিকারিকের ছ’টি আস্তানায় তল্লাশি চালালেন আসল ইডি আধিকারিকরা। অভিযুক্ত এনজওি কর্তার নাম শেখ জিন্নার আলি।
বুধবার শেখ জিন্নার আলির ক্ষেমতা গ্রামের বাড়িতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তল্লাশি চালায়। তারা ওই বাড়ি থেকে বেশ কিছু জমির দলিল পেয়েছেন। এছাড়া একটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছেন। ওই এনজিও কর্তা নিজেকে ইডি আধিকারিক দাবি করে কয়েক দিন আগে বাঁকুড়ার এক ঠিকাদারকে ফোন করে। ওই ঠিকাদার বালির ব্যবসা করেন। তাঁর ব্যবসায়ে অসঙ্গতি রয়েছে অভিযোগ তুলে দেড় কোটি টাকা দাবি করে জিন্নার আলি। ওই ঠিকাদার মোটা অঙ্কের টাকা তাকে দেনও। তারপর তাঁর সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি ইডিকে জানান। এরপরই কেন্দ্রীয় সংস্থার স্ক্যানারে আসে জিন্নার আলি। তদন্তকারীরা তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অসঙ্গতি খুঁজে পায়। এরপরেই একযোগে তার ছ’টি ঠিকানায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা অভিযান চালান। এদিন রায়নার বাড়িতে অভিযুক্ত ছিল না। তার বাবা এবং মায়ের উপস্থিতিতে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। কলকাতায় অভিযুক্তের রাজারহাট, নিউটাউনের ঠিকানাতেও তল্লাশি চলে। একই সময়ে বাঁকুড়ার একটি বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, সম্প্রতি জিন্নার আলির অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে। কোথা থেকে কীভাবে তার অ্যাকাউন্টে এই টাকা জমা পড়ল তা তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। ওই এনজিও কর্তা ‘অ্যান্টি ট্রাফিকিং কমিটির চেয়ারম্যান’ পরিচয় দিয়ে এলাকায় ছড়ি ঘোরাত। মানব পাচার বন্ধ করা তার ব্রত বলে দাবি করত। বাঁকুড়ার প্রতারিত ঠিকাদার বলেন, শেখ জিন্নার আলি নামে ওই ব্যক্তি ইডি আধিকারিক পরিচয় দিয়ে একাধিকবার ফোন করে। সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সের অফিসে সে বসে বলেও দাবি করে। আমার ব্যবসায় অসঙ্গতি রয়েছে, এমন অভিযোগ করে সে আমাকে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হতে বলে। পরে আবার বলে, কিছু টাকা দিলে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়া হবে। দেড় কোটি টাকা দাবি করে। প্রথমে এক কোটি ৩০ লক্ষ টাকা আদায় করে। পরে আরও ২০ লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। অনলাইনে টাকা পাঠিয়েছিলাম। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, সে ভুয়ো পরিচয় দিয়ে ফোন করেছিল। তারপরই থানায় অভিযোগ করা হয়।
এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, বিভিন্ন ভাবে টাকা হাতিয়ে রাতারাতি ফুলেফেঁপে উঠেছিল জিন্নার আলি। কিন্তু নিজেকে ইডি পরিচয় দেওয়াই কাল হয়ে ওঠে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কেউটের হদিশ পেয়েছেন। জিন্নার আলির ব্যাঙ্কের নথি দেখতে গিয়ে তাঁদের চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড়। বিদেশ থেকেও টাকা ওই অভিযুক্তের অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে কি না, তা তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন।