প্রীতেশ বসু, কলকাতা: পুরানো ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের বকেয়া আর্থিক দায়ের হিসাব চূড়ান্ত করতে জেলায় জেলায় পুনর্যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। প্রকৃত পাওনা চিহ্নিত করা, কাজের হিসাবের সঙ্গে সরকারি নথির সামঞ্জস্য যাচাই এবং কোনোরকম অনিয়ম থাকলে তা চিহ্নিত করাই, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এই মর্মে গত ২৯ অক্টোবর রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের চিঠি পাঠিয়েছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর।
কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনে ১০০ দিনের কাজের পুরানো বকেয়া যাচাই, হিসাবের নিরীক্ষণ এবং চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ এবং তার আগের বকেয়া এই প্রক্রিয়ার আওতায় আসবে। তবে সংশ্লিষ্ট বকেয়া মেলার ক্ষেত্রে সরকারি তথ্যভাণ্ডারে প্রাপকের নাম নথিভুক্ত থাকা জরুরি। প্রয়োজনীয় আর্থিক, প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক নথি দিয়ে তার যথার্থতা প্রমাণ করাটাও বাধ্যতামূলক। ২০২২ সালের ৯ মার্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গকে ১০০ দিনের কাজের টাকা দেওয়া বন্ধ করেছিল কেন্দ্র। যা নিয়ে তুঙ্গে উঠেছিল কেন্দ্র-রাজ্য রাজনৈতিক বিবাদ। কেন্দ্র না দেওয়ায় প্রায় ৩০ লক্ষ জব কার্ড হোল্ডারকে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা রাজ্যের কোষাগার থেকে খরচ করে মিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবিও করেছিল তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের আগের হিসাব পুনর্যাচাইয়ের উদ্যোগ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি তথ্যভাণ্ডারে কোনো বকেয়ার উল্লেখ থাকলেই, সেটিকে চূড়ান্ত পাওনা বলে ধরে নেওয়া হবে না। বাস্তবে কাজ হয়েছে কি না, কাজের অনুমোদন ছিল কি না, খরচের হিসাব ঠিক রয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট টাকা আগে মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্পের টাকা, অন্য খাতে খরচ হয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হবে। ব্লক, জেলা ও রাজ্য—এই তিনটি স্তরে পুনর্যাচাইয়ের কাজ হবে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, ব্লক স্তরের যাচাই শেষ করতে হবে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে। জেলা স্তরের যাচাই ও রিপোর্ট জমার সময়সীমা ৩০ নভেম্বর। রাজ্য স্তরের যাচাই শেষ করতে হবে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে। সবশেষে যাচাই করা, হিসাব মেলানো, নিরীক্ষিত ও প্রত্যয়িত বকেয়ার চূড়ান্ত বিবরণ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হবে।
তবে এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়া মানেই সমস্ত বকেয়া মিটে যাবে, তা নিশ্চিত নয়। যাচাইয়ের পরে যে পাওনাগুলি নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে, তার উপর ভিত্তি করে তৈরি হবে চূড়ান্ত বকেয়া তালিকা। ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বকেয়া এই নির্দিষ্ট পুনর্যাচাইয়ের আওতায় পড়ছে না। সেগুলি কেন্দ্রীয় মন্ত্রক আলাদাভাবে বিবেচনা করবে বলেই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে।



