বেঙ্গালুরু: আইপিএল জয়ের উৎসবে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১১জন ক্রিকেটপ্রেমী। এর জন্য রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকেই দায়ী করেছে সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল (ক্যাট)। প্রাথমিক রিপোর্টে তাদের পর্যবেক্ষণ এটাই। রিপোর্টে লেখা আছে, ‘প্রাথমিকভাবে তিন থেকে পাঁচ লক্ষ মানুষের এই জমায়েতের জন্য আরসিবি-ই দায়ী। তার জন্য পুলিসের থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। হঠাৎ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এই জমায়েতের কথা ঘোষণা করে ওরা। তার ভিত্তিতেই জড় হন ক্রিকেটপ্রেমীরা।’ 03
গত ৪ জুন সকালে বিধান সৌধ থেকে ভিকট্রি প্যারেড হওয়ার কথা জানায় আরসিবি। স্টেডিয়ামেও একটি অনুষ্ঠান হবে বলে জানানো হয়। সেখানে সমর্থকদের যোগদানের আশ্বাসও থাকে। সেজন্যই রাতারাতি স্টেডিয়ামের কাছে এমজি রোড ও কাবন রোডে প্রায় আড়াই লক্ষ সমর্থকরা হাজির হন। কিন্তু তাদের আইপিএল জেতার উল্লাস বদলে যায় বিভীষিকায়। আরসিবি’কে একহাত নিয়ে ক্যাট জানায়, ‘আচমকা ভিকট্রি প্যারেডের কথা ঘোষণা হওয়ায় উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিস সময় পায়নি। কোনও অনুমতি ছাড়াই আরসিবি এই উপদ্রব করে। মাথায় রাখতে হবে যে, পুলিসকর্মীরাও মানুষ। কেউ ভগবান নন। জাদুকরও নন। আলাদিনের মতো প্রদীপও তাঁদের কাছে নেই যে, যাবতীয় আব্দার মুহূর্তে পূরণ করা যাবে।’
এমন কড়া রিপোর্টের পর স্বাভাবিকভাবেই বেকায়দায় আরসিবি কর্তৃপক্ষ। তবে তাঁদের পক্ষ থেকে এই ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। উল্লেখ্য, আইপিএলের ১৮তম বর্ষে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন বিরাট কোহলিরা। সেই আবেগই পরিণত হয় বিশৃঙ্খলায়। তাতেই পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু ঘটে ১১জনের। এই ঘটনার দায় আরসিবি, পুলিস ও কর্ণাটক ক্রিকেট সংস্থা একে অন্যের উপর ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছিল। তবে ক্যাটের রিপোর্টের পর রীতিমতো অস্বস্তিতে আরসিবি ফ্র্যাঞ্চাইজি।