হায়দরাবাদ: রাঁচিতে ২৫০ রানের টার্গেটে অনায়াসে পৌঁছে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নিজামের শহরে বুধবার ভারত কিন্তু ২৪৮ রানের লক্ষ্যের সামনে মুথ থুবড়ে পড়ল। ২৪ রানে জিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে সমতা (২-২) ফেরাল ক্যারিবিয়ানরা।
রান তাড়ার শুরুটা যদিও মারকাটারি মেজাজে করেছিল ভারত। ৫০ ওঠে মাত্র তিন ওভারে। তার মধ্যে সঞ্জু স্যামসনেরই ৪৭। অভিষেক শর্মার অবদান ছিল মাত্র ১। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি! সঞ্জুর হাফ-সেঞ্চুরি আসে মাত্র ২০ বলে। কিন্তু পঞ্চম ওভারে কিমো পলের জোড়া ধাক্কা চাপে ফেলে। ছক্কা মারতে গিয়ে সীমানায় ‘রিলে’ ক্যাচে আউট হন সঞ্জু (২৩ বলে ৫৬)। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৪টি ছক্কা। তিন বল পরেই আউট ঈষান কিষান (৬)। পাওয়ার প্লে’র ছয় ওভারের শেষে ভারতের স্কোর ছিল ৮০-২। কিন্তু তারপরই নামে ধস। শ্রেয়স (১৬) ফেরেন শামার স্প্রিঙ্গারকে মারতে গিয়ে। অভিষেক (২৯) এদিন মেজাজে ছিলেন না। বাঁ-হাতি স্পিনার মোতির ডেলিভারিতে আউট তিনি। পরের বলেই স্টাম্পড নমন ধীর (০)। নীতীশ রেড্ডি এসে মোতির হ্যাটট্রিক আটকান। তিলক ভার্মা লড়াই জারি রেখেছিলেন। কিন্তু তিনি (২৫ বলে ৪৩) ফিরতেই ম্যাচের ভবিতব্য নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষ দু’ওভারে জিততে দরকার ছিল ৪৩। নীতীশ (২০ বলে ৪১) সফল হননি। ভারত থামে ২২৩ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে কিমো পল নেন পাঁচ উইকেট।
তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজের পর টি-২০ সিরিজেও টস জিতে ব্যাটিংই জয়ের মন্ত্র। একমাত্র ইন্দোরে রবিবার এর ব্যতিক্রম দেখা গিয়েছিল। এদিন তাই শ্রেয়স আয়ার টস জিততেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে ভারত রান তাড়া করতে চলেছে। ক্যারিবিয়ানরা অবশ্য শুরু থেকেই চার-ছয়ের ফুলঝুরিতে ভারতীয় বোলারদের চাপে ফেলতে থাকে। আর একাজে নেতৃত্ব দেন শাই হোপ। এবারের সফরে স্বপ্নের ফর্মে রয়েছেন ক্যারিবিয়ান ক্যাপ্টেন। এর আগে ওডিআই সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচে শতরান পেয়েছিলেন। চলতি টি-২০ সিরিজেও দুটো সেঞ্চুরি হয়ে গেল তাঁর। কুড়ি ওভারের ঘরানায় এদিন তৃতীয় শতরান পূর্ণ করলেন ৩২ বছর বয়সি। যা এল ইনিংসের শেষ বলে মারা ছক্কায়। কোনো ক্যারিবিয়ান ব্যাটারের এই ফরম্যাটে এত শতরান নেই। ২০০০ রানের গণ্ডিও পেরিয়ে গেলেন হোপ। ৫০ বলে তাঁর অপরাজিত ১০২ রানে রয়েছে ৯টি ছক্কা ও ৪টি চার।
হোপ ছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে রান পেলেন শেরফানে রাদারফোর্ড। ২৬ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন বাঁ-হাতি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৩টি ছক্কা। অবিচ্ছিন্ন চতুর্থ উইকেটে হোপ ও রাদারফোর্ড ৪৩ বলে যোগ করেন ৯১ রান। যা সফরকারী দলকে ৩ উইকেটে ২৪৭ রানে পৌঁছে দেয়। শিমরন হেটমায়ার (১২ বলে ৩৩), রভম্যান পাওয়েল (১৭ বলে ২৪), জেয়েল অ্যান্ড্রু (১৬ বলে ২১)— সকলেই অবদান রাখেন। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে উইকেট পান প্রিন্স যাদব (১-৩৬), অক্ষর প্যাটেল (১-৪৫) ও অর্শদীপ সিং (১-৫২)। মায়াঙ্ক যাদব (০-৫২), নীতীশ রেড্ডি (০-৩৯), নমন ধীর ( ০-১৯) সাফল্য পাননি। এই সিরিজ কিন্তু ভারতীয় বোলিং নিয়ে প্রচুর প্রশ্নের জন্ম দিল। স্ট্রাইক বোলারের অভাব স্পষ্ট। সিরিজের শেষ ম্যাচ শনিবার বেঙ্গালুরুতে।



