দুবাই: একদিনের ক্রিকেটে ওপেন করলেও ২০১৯ সাল পর্যন্ত টেস্টে মিডল অর্ডারই ছিল রোহিত শর্মার ঠিকানা। কিন্তু ওই জায়গায় ব্যাটিং উপভোগ করছিলেন না তিনি। আসছিল না বড় রানও। এই পরিস্থিতিতে মুম্বইকরকে পাঁচদিনের ঘরানায় ওপেনার বানানোর সিদ্ধান্ত নেন টিম ইন্ডিয়ার তৎকালীন প্রধান কোচ রবি শাস্ত্রী। সেটাই পাল্টে দেয় রোহিতের টেস্ট কেরিয়ার। আইসিসি রিভিউতে সেই সম্পর্কে শাস্ত্রী বলেছেন, ‘মিডল অর্ডারে ও স্বচ্ছন্দ ছিল না। আমি তখন ভাবতে শুরু করি, একদিনের ক্রিকেটে ছেলেটা এত সফল কেন? আসলে ও তাড়াতাড়ি ক্রিজে যেতে পছন্দ করে। টেস্টে ওপেন করলেই সেটা সম্ভব। তাছাড়া পেসারদের বিরুদ্ধে সবরকম শট ওর আয়ত্তে। টেস্টে এমনিতেও আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজানো থাকে। তাই রান করার সুযোগ প্রচুর। রোহিতের কাছে ব্যাপারটা হানিমুনের মতো হয়ে উঠবে। এমন ভাবনা থেকেই ওকে ওপেনার করা।’
সেই সিদ্ধান্তই হয়ে ওঠে মাস্টারস্ট্রোক। রোহিতের টেস্ট কেরিয়ারে যুক্ত হয় নয়া আকর্ষণ। টেস্টে দেশের বিধ্বংসী ওপেনারদের মধ্যে জায়গা করে নেন ‘হিটম্যান’। সম্প্রতি লাল বলের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন রোহিত। এই ফরম্যাটে ৬৭ ম্যাচে ৪,৩০১ রান রয়েছে তাঁর, যাতে শামিল ১২টা সেঞ্চুরি ও ১৮টা হাফ-সেঞ্চুরি। টেস্টে ওপেনার হিসেবে প্রথম সিরিজেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আসে জোড়া সেঞ্চুরি। সবমিলিয়ে তাঁর ১২টার মধ্যে ৯টা টেস্ট সেঞ্চুরিই ওপেনারের ভূমিকায়। শাস্ত্রী বলেছেন, ‘মিডল অর্ডারে ২০-৩০ রানে আটকে যাচ্ছিল ও। সেজন্যই শুরুতে নামিয়ে ওকে চাপে ফেলতে চেয়েছিলাম। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ওকে বলেওছিলাম যে, তোমায় ওপেনার হিসেবে চাইছি। ২০১৯ সালের ওডিআই বিশ্বকাপে রোহিতের অসাধারণ ধারাবাহিকতার পর আগস্টেই সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেলি। টেস্ট ওপেনার হিসেবে প্রথম ইনিংসেই বড় শতরান হাঁকায় ও। আর ফিরে তাকাতে হয়নি।’ আর এই সাফল্যের নেপথ্যে টেকনিক নিয়ে রোহিতের পরিশ্রম করার কথাও শুনিয়েছেন শাস্ত্রী।