Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তৃণমূলকে প্রথম বিধায়ক দিয়েছিল রাসবিহারী, তিন দশকের ব্যবধানে সেখানেই লজ্জার হার!‘মান’ বাঁচল শুধু কালীঘাটের একটি ওয়ার্ডে

সেই ১৯৯৮ সাল থেকে টানা ২৭-২৮ বছর দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্র ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। ঘোর বাম জমানাতে, ১৯৯৮ সালের উপ-নির্বাচনে এই কেন্দ্রই প্রথম বিধায়ক উপহার দিয়েছিল তৃণমূলকে।

তৃণমূলকে প্রথম বিধায়ক দিয়েছিল রাসবিহারী,  তিন দশকের ব্যবধানে সেখানেই লজ্জার হার!‘মান’ বাঁচল শুধু কালীঘাটের একটি ওয়ার্ডে
  • ১৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সেই ১৯৯৮ সাল থেকে টানা ২৭-২৮ বছর দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্র ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। ঘোর বাম জমানাতে, ১৯৯৮ সালের উপ-নির্বাচনে এই কেন্দ্রই প্রথম বিধায়ক উপহার দিয়েছিল তৃণমূলকে। জোড়াফুল চিহ্নে জয়ী হয়েছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। প্রায় তিন দশকের ব্যবধানে সেখানেই মুখ থুবড়ে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। এই কেন্দ্রের অন্তর্গত ন’টি ওয়ার্ডের মধ্যে আটটিতেই বিপুল ব্যবধানে পিছিয়ে গিয়েছে তৃণমূল। কলকাতা পুরসভার ৮৮ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে কাউন্সিলার বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মালা রায়। সেই ওয়ার্ডেও হেরেছে তৃণমূল। এর মধ্যে কিছুটা হলেও মান বাঁচিয়েছে কালীঘাট! 

Advertisement

একসময় এই রাসবিহারী কেন্দ্র ছিল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করার পর ১৯৯৮ সাল থেকে এখানে টানা জিতেছেন মমতার অনুগত সৈনিক শোভনদেব। বামফ্রন্টের ক্ষমতা যখন তুঙ্গে, তখনও দক্ষিণ কলকাতার এই বিধানসভায় দাঁত ফোটাতে পারেনি লালপার্টি। ২০০১, ২০০৬, ২০১১, ২০১৬-র বিধানসভা ভোটে এই কেন্দ্র থেকেই বিধায়ক হয়েছেন শোভনদেব। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করে কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমারকে। তিনি জয়লাভ করেন। কিন্তু, এবার শহরের অন্যান্য একাধিক আসনের মতো এখানেও তৃণমূলের পতন ঘটেছে। বিপুল ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমার। জয়লাভ করেছেন বিজেপির স্বপন দাশগুপ্ত। ঘটনাচক্রে দেবাশিস ও স্বপন, দু’জনেই বালিগঞ্জ বিধানসভার ভোটার। স্বপনবাবু থাকেন কাউন্সিলার দেবাশিসবাবুর ওয়ার্ডেই। 
ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূলকে সব থেকে বেশি ধাক্কা দিয়েছে যোধপুর পার্ক, সাউথ সিটি অঞ্চল। ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল ৬০৭৫ ভোটে পিছিয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নিউ আলিপুর অঞ্চলে কাউন্সিলার জুঁই বিশ্বাসের ৮১ নম্বর ওয়ার্ড। সেখানে ৫৩০৮ ভোটে পিছিয়ে মমতার দল। তৃতীয় স্থানে রয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পুত্র সৌরভ বসুর (বাপ্পা) ৮৬ নম্বর ওয়ার্ড। সেখানে তৃণমূল ৩০৯৩ ভোটে পিছিয়ে। বর্ষীয়ান কাউন্সিলার তথা সাংসদ মালা রায়ের ৮৮ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের পিছিয়ে থাকা অনেককেই চমকে দিয়েছে। কারণ, ১৯৯৫ সাল থেকে মালাদেবী এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার। প্রথমে জাতীয় কংগ্রেস, এনসিপি, পরে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে এই ওয়ার্ডে বারবার জিতেছেন তিনি। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে যখন কলকাতার ১০০টি ওয়ার্ডে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল, তখনও এই ওয়ার্ডে জোড়াফুল শিবিরই এগিয়েছিল। এবার এই ওয়ার্ডেও বয়ে গিয়েছে গেরুয়া ঝড়। এখানে তৃণমূল পিছিয়ে রয়েছে ৪০৩ ভোট। এর মধ্যে একমাত্র ‘মানরক্ষা’ করেছে কালীঘাট এলাকার ৮৩ নম্বর ওয়ার্ড। কাউন্সিলার প্রবীর মুখোপাধ্যায়ের এই ওয়ার্ডে ৪৪২ ভোটে এগিয়ে জোড়াফুল শিবির।
নির্বাচন পর্বে তৃণমূল কংগ্রেসের নিজস্ব রিভিউতে ৯৩, ৮১, ৮৬, ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডে খুব একটা ভালো ফল আশা না করলেও ৮৮ এবং ৯০ নং ওয়ার্ডে  এই ‘পরাজয়’ তাঁরা ভাবতে পারেননি বলে জানাচ্ছেন তৃণমূল নেতারা। মালা রায়ের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে দাবি, ওই ওয়ার্ডের প্রায় ৮০০ ভোটারের নাম এসআইআরে কেটে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা প্রত্যেকেই প্রকৃত ভোটার ছিলেন। এভাবেই ষড়যন্ত্র করে তাদের হারানো হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ