Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

আগামী অর্থবর্ষে ০.৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে রেপো রেট, মত ক্রিসিলের

মার্কিন প্রসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি ইতিমধ্যেই প্রায় গোটা বিশ্বেই কমবেশি প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

আগামী অর্থবর্ষে ০.৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে রেপো রেট, মত ক্রিসিলের
  • ৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মার্কিন প্রসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি ইতিমধ্যেই প্রায় গোটা বিশ্বেই কমবেশি প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। একাধিক দেশের সঙ্গে শুল্ক-তরজা প্রকট হচ্ছে ক্রমশ। আগামী অর্থবর্ষে জুড়েও এর প্রভাব থাকবে। ভারতীয় অর্থনীতিও তার বাইরে থাকবে না, এমনটাই মনে করছে অন্যতম ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ক্রিসিল। এর ফলে ভারতের আমদানি ও রপ্তানির মধ্যে বৈষম্য আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে তারা। পাশাপাশি ক্রিসিলের ধারণা, আগামী অর্থবর্ষে রেপো রেট আরও কমাতে পারে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। তা ৫০ থেকে ৭৫ বেসিস পয়েন্ট নামতে পারে। প্রসঙ্গত, আরবিআই রেপো রেট কমালে, ব্যাঙ্কগুলিরও ঋণ ও ডিপোজিটের উপর সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা থাকে।

Advertisement

জিনিসপত্রের দাম দীর্ঘ সময় ধরেই যথেষ্ট চড়া। তাকে সামাল দিতে কয়েক বছর ধরেই রেপো রেট ৬.৫ শতাংশে আটকে রেখেছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। সুদ বেড়ে থাকায়, তা নিয়ে ক্ষোভ ছিল শিল্পমহলের। শেষ নীতি নির্ধারক বৈঠকে রেপো ০.২৫ শতাংশ কমায় আরবিআই। বর্তমানে তা ৬.২৫ শতাংশ। ক্রিসিলের দাবি, তা আগামী অর্থবর্ষ, অর্থাৎ ২০২৫-২৬ সালে ৫.৫ থেকে ৫.৭৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে অবশ্য দু’টি বিষয় কাজ করতে পারে বলে মনে করছে ক্রেডিট রেটিং সংস্থাটি। তাদের বক্তব্য, আমেরিকা সুদের হার কমানোর ক্ষেত্রে ধীরে চলো নীতি নিয়েছে। তারা যদি সুদ কমাতে টালবাহানা করে, তাহলে ভারতও সেক্ষেত্রে সুদ আরও কমানোর সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, জলবায়ুর পরিবর্তন সংক্রান্ত ঝুঁকিও অস্বীকার করা যায় না। কারণ, আবহাওয়ার উপর অর্থনীতি অনেকটাই নির্ভরশীল। সঠিক বর্ষা না হওয়া বা অতিরিক্ত তাপমাত্রা ফসল উৎপাদনে সমস্যা তৈরি করে। ভারতের মতো কৃষিপ্রধান দেশে কৃষিপণ্য উৎপাদন ভালো না হলে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয় না। মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনাও বাড়ে। তাই সুদ কমানোর ক্ষেত্রে এই দিকটিও বিবেচনা করা হবে।
ক্রিসিলের আশঙ্কা, আমেরিকার শুল্ক নীতির জের আগামী অর্থবর্ষেও জিইয়ে থাকার দরুন দেশের আমদানির তুলনায় রপ্তানির অঙ্ক কমবে। যেহেতু আমেরিকা ভারতের পণ্য রপ্তানির অন্যতম সেরা ঠিকানা, তাই ট্রাম্প বেশি শুল্ক চাপাতে শুরু করলে রপ্তানি কমতে বাধ্য। অন্যদিকে, বিশ্বের অন্যান্য দেশেও আর্থিক বৃদ্ধি আশানুরূপ না-হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। সবদিক থেকে বিচার করলে দেশীয় পণ্য রপ্তানি অনেকটাই মার খাওয়ার আশঙ্কা করছে ক্রিসিল। তাদের ধারণা, পরিষেবা শিল্পের রপ্তানি সেই ঘাটতি কিছুটা পূরণ করতে পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ