


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠল দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টে (আইআইএম, কলকাতা)! ব্যাপারটা মেনে নিতে পারছেন না প্রতিষ্ঠানের প্রক্তনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা। শনিবার সকাল থেকেই জোকার ওই প্রতিষ্ঠানের বাইরে ছিল পুলিসি প্রহরা। মূল ফটক থেকে সকলেরই প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়েছে। আর অদূরে চায়ের দোকানে বসে এই বিষয়ে আলোচনা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, এমনকী প্রাক্তনীরাও। কথায় ফিরে ফিরে আসছে পুরনো দিনের কথা। তাঁদের বক্তব্য একটাই, ‘ভিতরে একেবারেই আলাদা পৃথিবী। অপার স্বাধীনতা। খেলাধুলা-নেচার ক্লাব, আরও কত কী! কিন্তু কোনোকালে এমন ঘটনার কথা শুনিনি।’
ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি বলছিলেন, ‘আমি আটের দশকে এখান থেকেই ম্যানেজমেন্টে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা করেছিলাম। এখানেই আমার বাবা চাকরি করতেন। ফলত, ক্যাম্পাসের ভিতরে কোয়ার্টারে কেটেছে জীবনের অনেকখানি সময়। আমাদের সময় থেকেই অপার স্বাধীনতা ছিল। ছাত্রদের হস্টেলে ছাত্রীরাও আসতেন। কিন্তু এরকম ঘটনার কথা কখনোই শুনিনি। আমি এখন এই এলাকারই বাসিন্দা।’ এই আক্ষেপকারী নাম প্রকাশ করতে চান না।
তিনি আরও বলছিলেন, ‘এখন কোর্সের সংখ্যা বেড়েছে। বেড়েছে পড়ুয়ার সংখ্যাও। বাইরের কেউ প্রবেশ করলে তো খাতায় লিখতেই হবে। কেউ সেটা না করে থাকলে অত্যন্ত অন্যায়। শেষ চার-পাঁচ বছর ক্যাম্পাসে যাইনি। এখন খুব কড়াকড়ি হয় বলেই শুনেছি। তার মধ্যেও এসব কীভাবে হয় কে জানে!’
এদিকে, স্বচ্ছ-নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে সকালেই কলেজের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে কংগ্রেস। বিকেলে মিছিল করে সিপিএমের ছাত্র-যুব-মহিলাদের সংগঠন। এই মুহূর্তে আইআইএম, জোকায় ঠিকাদার শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে। তাঁদের একজনের কথায়, ‘বাইরের লোকজন কলেজে আসে। নেশাও করে। এসব দেখেছি। কিন্তু কোনোরকম মাত্রাছাড়া হুজ্জুতির কথা আগে শুনিনি। এখানে তো নিরাপত্তার দায়িত্বে বেশিরভাগই প্রাক্তন সেনা সদস্যরা থাকেন। এমন ঘটনার কথা আমরা শুনেও অবাক!’ আবার স্থানীয় বাসিন্দা আইআইএমের এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মী বলছিলেন, ‘কলেজ কর্তৃপক্ষ তো এর দায় এড়াতে পারেন না। সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা দরকার।’ আইআইএম, জোকার অন্দরে কিন্তু ছাত্ররাজনীতির অস্তিত্ব নেই। খবর, নির্বাচিত ছাত্র অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে। এখানে শুধুমাত্র স্নাতকোত্তর স্তরের পড়াশোনাই হয়। এক প্রাক্তনীর কথায়, ‘এখানে যাঁরা পড়তে আসেন, তাঁরা বয়সে অনেকটাই বড়। দেশের সেরা পড়ুয়াদের মধ্যে অন্যতম তাঁরা। এরকম ঘটনা আইআইএমের অন্দরে সত্যিই মেনে নেওয়া যায় না।’