Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘মা’কে প্রণাম করে প্রচারে রঞ্জন এবার লড়াই অনেক সহজ, বলছেন শিখা

‘মায়ের’ আশীর্বাদ নিয়ে প্রচার শুরু করলেন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূলের প্রার্থী রঞ্জনশীল শর্মা।

‘মা’কে প্রণাম করে প্রচারে রঞ্জন এবার লড়াই অনেক সহজ, বলছেন শিখা
  • ২০ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: ‘মায়ের’ আশীর্বাদ নিয়ে প্রচার শুরু করলেন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূলের প্রার্থী রঞ্জনশীল শর্মা। এই কেন্দ্রে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী বর্তমান বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়কে বহুদিন আগেই মায়ের আসনে বসিয়েছেন রঞ্জন। ১৮ বছর বয়সে নিজের মায়ের মৃত্যুর পর শিখাদেবী স্নেহ, ভালোবাসা ও শাসনে বেড়ে উঠতে সাহায্য করেছে রঞ্জনবাবুকে। সেই থেকেই রঞ্জনবাবু তাঁকে মা বলে ডাকেন। এই মা ও ছেলের লড়াইয়ে এবারে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে আলাদা করে নজর কাড়ছে। যদিও মায়ের দাবি, এবার লড়াইটা অনেক সহজ হল। 

Advertisement

প্রার্থী ঘোষণার পর বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি ফিরেছেন রঞ্জন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি শান্তিনগরে শিখাদেবীর বাড়িতে পৌঁছে যান ফুল ও মিষ্টি নিয়ে। শিখাদেবীর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ চান ‘ছেলে’ রঞ্জন। দু’জনে দু’জনকে মিষ্টিমুখ করান। এই দৃশ্য দেখার জন্য সাতসকালেই শিখাদেবীর বাড়ির সামনে প্রচুর মানুষ উপস্থিত হয়েছিল। 
গতবার এই কেন্দ্রে দু’বারের রাজ্যের মন্ত্রী তৃণমূলের গৌতম দেবকে ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন শিখাদেবী। এবার ছেলের বিরুদ্ধে লড়াই। তাই ছেলেকে তিনি কী আশীর্বাদ করেন এনিয়ে সকলের কৌতূহল ছিল। তবে শিখাদেবী সুন্দরভাবে পরিস্থিতি সামলান। ছেলে প্রণাম করতেই তিনি রঞ্জনশীল শর্মার মাথায় হাত দিয়ে বলেন, দেশকে রক্ষা করো। ধর্মকে রক্ষা করো। শুভবুদ্ধির উদয় হোক। 
ছেলের বিরুদ্ধে লড়াই তাতে কোনো সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন শিখাদেবী। তিনি বলেন, এটা ব্যক্তিগত সম্পর্ক। ভোটের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কোনো প্রভাব পড়বে না। তৃণমূল পরিবারের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ঢুকিয়ে দেওয়ার রাজনীতি করে। কিন্তু তাতে আমাদের কোনো সমস্যা হবে না। এবারে ভোটের লড়াই ধর্মের সঙ্গে অধর্মের। সেখানে ধর্মের জয় হবে। এবার তৃণমূল হারবে। লড়াই আরো সহজ হল আমার। 
রঞ্জনবাবু বলেন, শিখাদেবী আমার মা। মা’কে প্রণাম করেই প্রচার শুরু করলাম। রাজনীতি আর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এক নয়। জীবনে ওঁর আশীর্বাদ নিয়েই আমি চলছি। ছেলে হিসাবে সারা বছর মায়ের খোঁজখবর রাখা, ডাক্তার দেখানো সব করি। তবে ভোটের প্রচারে গত পাঁচ বছরে বিধায়ক মায়ের ব্যর্থতা তুলে ধরতে যে তিনি দ্বিধাবোধ করবেন না, তা এদিন বুঝিয়ে দিয়েছেন। রঞ্জন বলেন, গত পাঁচ বছরে এই এলাকাকে নিয়ে পুরসভা গঠন করা ও কলেজ তৈরির ব্যাপারে এমএলএ বিধানসভায় কোনো দাবি তোলেননি। সবদিক দিয়েই পিছিয়ে পড়েছে কেন্দ্রটি। এলাকার মানুষ তাদের সমস্যায় বিধায়ককে সেভাবে পায়নি। • রঞ্জন শীল শর্মাকে আশীর্বাদ শিখা চট্টোপাধ্যায়ের। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ