Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রানিনগর: তৃণমূল নেতার স্ত্রীর দুই জায়গায় চাকরি!

প্রাক্তন যুব তৃণমূল নেতার স্ত্রী নাকি দুই জায়গায় চাকরি করেন। এমনই অভিযোগ ঘিরে সরগরম হল রানিনগর।

রানিনগর: তৃণমূল নেতার স্ত্রীর দুই জায়গায় চাকরি!
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: প্রাক্তন যুব তৃণমূল নেতার স্ত্রী নাকি দুই জায়গায় চাকরি করেন। এমনই অভিযোগ ঘিরে সরগরম হল রানিনগর। রানিনগর-২ পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সদস্য তথা ব্লক যুব তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি মিজান হাসানের স্ত্রী রূপসোনা খাতুনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। খোদ রানিনগর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কুদ্দুস আলি লিখিতভাবে ডোমকলের মহকুমা শাসকের কাছে এই অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার বিডিওর তরফে শুনানির জন্য রূপসোনাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর তাঁকে শুনানিতে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। পুরো ঘটনা জানাজানি হতেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। 

Advertisement

কুদ্দুস আলির অভিযোগ, ২০২০ সালে কোমনগর হাই মাদ্রাসা ও একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মধ্যে একটি চুক্তি করা হয়। রূপসোনা ওই হাই মাদ্রাসার সংখ্যালঘু ছাত্রী আবাসে মেট্রন হিসেবে কাজ শুরু করেন। কুদ্দুস সাহেবের অভিযোগ, সেখানে সরকারিভাবে টাকা পাওয়ার পরেও ২০২১ সালে স্বামীর নামের পরিবর্তে বাবার নাম ব্যবহার করে বাংলা সহায়তা কেন্দ্রে চাকরিতে নিযুক্ত হন রূপসোনা। তারপর থেকেই এতদিন ধরে ভিন্ন পরিচয়ে দুই জায়গা থেকে সরকারি নিয়ম বহির্ভূতভাবে টাকা আত্মসাৎ করেছেন, যা পুরোপুরিভাবে অনৈতিক। এরপরই গত ২২ আগস্ট তিনি ডোমকলের মহকুমা শাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। 
কুদ্দুস সাহেব আরও বলেন, আগে সভাপতি থাকাকালীন ক্ষমতার জেরে এই কাজ করা হয়েছে। পুরো বিষয় নিয়ে আমি প্রশাসনিকস্তরে অভিযোগ জানানোর পরেই উনি মেন্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু, আমার কথা হল শুধু পদত্যাগ করলে হবে না, এতদিন ধরে যে টাকা তিনি নিয়েছেন, তা ফিরিয়ে দেওয়া হোক। 
এ বিষয়ে রূপসোনার তরফে তাঁর স্বামী মিজান হাসান বলেন, আমাকে রাজনৈতিকভাবে কালিমালিপ্ত করার জন্যই এই মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। আমার স্ত্রী একসঙ্গে দু’জায়গায় চাকরি করে না। হাই মাদ্রাসায় গ্রুপ সিলেকশন হয়েছে, কোনও ব্যক্তি সিলেকশন হয়নি। হস্টেলটিকে চালানোর জন্য একটা গোষ্ঠী লাগে, আমার স্ত্রীও সেই গোষ্ঠীতে রয়েছে। আলাদাভাবে আমার স্ত্রীর ব্যাঙ্কের খাতায় কোনও টাকা ঢোকে না। যা টাকা ঢোকে গোষ্ঠীর খাতায়। আর সেই টাকা গোষ্ঠীর লোকজন ভাগ করে নেয়। এটা শুরু হয় ২০১৯ সাল থেকে। আর ২০২২ সালে আমার স্ত্রী বিএসকেতে নিযুক্ত হয়। তারপর থেকে আর গোষ্ঠীর কোনও টাকা আমার স্ত্রী নিত তা। গোষ্ঠীর অন্যরা তা নিত। আমার স্ত্রী ইতিমধ্যেই একটি কাজ থেকে পদত্যাগ করেছে। মূলত আমাকে রাজনৈতিকভাবে দামনোর জন্যই আমার স্ত্রীকে ইস্যু করে এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। এখন যখন নোটিশ করা হয়েছে, সেই দিনই বিডিও সাহেবের সামনে আমার স্ত্রী তার দিকটা জানাবে। এটাই আমার স্ত্রীরও বক্তব্য। 
রানিনগর-২ বিডিও কৃষ্ণনির্মাল্য ভট্টাচার্য বলেন, অভিযোগ এসেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দু’পক্ষকে ডাকা হয়েছে। ওদের বক্তব্য শোনার পর পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  এই সেই অভিযোগপত্র। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ