সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ঐতিহ্যের স্মারক নাকি বিজ্ঞাপনের জায়গা? রামপুরহাট জংশন স্টেশনে প্রবেশের মুখে লাইন পেতে বসানো পুরনো স্টিম ইঞ্জিনটির বর্তমান অবস্থা দেখে এই প্রশ্নই তুলছেন ক্ষুব্ধ রেলযাত্রীরা। বিজ্ঞাপনের বিশাল ফ্লেক্সে অতীতের ঐতিহ্য ঢেকে গিয়েছে।
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ঐতিহ্যের স্মারক নাকি বিজ্ঞাপনের জায়গা? রামপুরহাট জংশন স্টেশনে প্রবেশের মুখে লাইন পেতে বসানো পুরনো স্টিম ইঞ্জিনটির বর্তমান অবস্থা দেখে এই প্রশ্নই তুলছেন ক্ষুব্ধ রেলযাত্রীরা। বিজ্ঞাপনের বিশাল ফ্লেক্সে অতীতের ঐতিহ্য ঢেকে গিয়েছে।
ন্যারোগেজ লাইনের ইতিহাস ধরে রাখার জন্য ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে কাটোয়া থেকে একটি ১০৮ বছরের পুরোনো স্টিম ইঞ্জিন নিয়ে আসা হয় রামপুরহাটে। সেটিকে স্টেশনের প্রবেশপথে সুসজ্জিত করে বসায় রেল কর্তৃপক্ষ। যা রামপুরহাট জংশনের সৌন্দর্য ও গরিমা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, লন্ডন থেকে জয়পুর, অনেক জায়গাতেই সংরক্ষিত হয়েছে ন্যারোগেজ লাইনের স্টিম ইঞ্জিন। হাওড়া স্টেশনের বাইরে রয়েছে এমন ইঞ্জিন। হাওড়া রেল মিউজিয়ামেও সংরক্ষিত রয়েছে ন্যারোগেজ লাইনের স্টিম ইঞ্জিন। সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিল রামপুরহাট জংশন। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক স্মারক ঢেকে গিয়েছে বিজ্ঞাপনের ফ্লেক্সে। চারপাশের সৌন্দর্যায়নও ফ্লেক্সের আড়ালে অদৃশ্য। এতেই চটেছেন সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দিয়ে ট্রেন ধরে বাড়ি ফিরতে রামপুরহাট জংশনে আসেন ত্রিলোচন হালদার। তিনি বলেন, লন্ডন থেকে জয়পুর, এমনকী হাওড়া স্টেশনেও ন্যারোগেজ লাইনের স্টিম ইঞ্জিন সযত্নে সংরক্ষিত রয়েছে। সেখানে রামপুরহাটের এই ঐতিহাসিক গর্বকে বিজ্ঞাপনের আড়ালে ঢেকে দেওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক।
রেল সূত্রের খবর, ১৯৯৪ সালের ২৪ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ইঞ্জিনটি ট্র্যাকে চলেছে। এর পরের বছরই অর্থাৎ ১৯৯৫ সালে রেল স্টিম ইঞ্জিনের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। কাটোয়ায় দীর্ঘদিন পড়ে থাকা সেই ইঞ্জিনটিকে অবশেষে রামপুরহাটে স্থায়ী ঠিকানা দেওয়া হলেও বিজ্ঞাপনের দাপটে আপাতত আড়ালে ১০৮বছরের ইতিহাস। ঐতিহ্যবাহী ইঞ্জিনটি আর দেখা যাচ্ছে না বললেই চলে। চারপাশে বড় বড় বিজ্ঞাপনের ফ্লেক্স। ইঞ্জিনের সামান্য অংশ শুধু ফ্লেক্সের পাশ দিয়ে উঁকি মারছে।
প্রাতঃভ্রমণে আসা এক ব্যক্তি বলেন, এই ইঞ্জিনটির বয়স যখন কম ছিল, তখন এর পেটে কয়লা দিয়ে দেশজুড়ে মানুষ নিয়ে দৌড়াত। কাটোয়া থেকে কত স্মৃতি বহন করে এনেছে। রেল ভেবেছিল একে রামপুরহাটে এনে সম্মান দেবে। কিন্তু সম্মান দূরে থাক, এখন তার সৌন্দর্যায়নের অংশকে বিজ্ঞাপনের ফ্লেক্স টাঙানোর খুঁটি বানিয়ে রেখে দিয়েছে। যে ইঞ্জিন একদিন গোটা দেশকে চালিত করেছিল সে আজ বিজ্ঞাপনের আড়ালে বন্দি।
রামপুরহাট জংশনের স্টেশন ম্যানেজার হাদিউজ জামান বলেন, বিষয়টি জংশনের কমার্শিয়াল টেন্ডার ইন্সপেক্টরকে দেখার জন্য বলা হয়েছে। ওই আধিকারিককে কল করা হলে তিনি বলেন, ব্যস্ত রয়েছি। পরে কথা বলব। -নিজস্ব চিত্র