Bartaman Logo
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জখম পা নিয়ে খাবারের সন্ধানে বিভিন্ন জঙ্গলে ঘুরছে রামলাল

বাঁ পা জখম হওয়ায় হাঁটাচলা করতে পারছিল না রামলাল। বন দপ্তরের চিকিৎসদের তৎপরতায় আপাতত কিছুটা সুস্থ হয়েছে সে।

জখম পা নিয়ে খাবারের সন্ধানে বিভিন্ন জঙ্গলে ঘুরছে রামলাল
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: বাঁ পা জখম হওয়ায় হাঁটাচলা করতে পারছিল না রামলাল। বন দপ্তরের চিকিৎসদের তৎপরতায় আপাতত কিছুটা সুস্থ হয়েছে সে। তবে জখম পা নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে খাবারের সন্ধানে জঙ্গল চষে ফেলছে ওই হাতি। সমাজ মাধ্যমে সেই ছবিই ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও ওই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’। জেলার বাসিন্দারা রামলালকে ঘেরাটোপের মধ্যে রেখে খাবার ও চিকিৎসার দাবি তুলছেন। ঝাড়গ্রাম বন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, রামলালের উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

Advertisement

রামলালের বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। বার্ধক্যের ভারে এখন ন্যুব্জ ওই হাতি। এশিয়ার হাতিরা সাধারণত ৬০- ৭০ বছর বাঁচতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক ও আচারণগত পরিবর্তনও ঘটে। দাঁতের মাড়িতে ক্ষয় শু রু হয়। শক্ত খাবার চিবিয়ে খেতে না পারায় হজমে সমস্যা হয়। অপুষ্টিজনিত সমস্যা দেখা দেয় শরীর ক্রমশ ঝুঁকে পড়তে শুরু করে। বিশাল শরীরের কারণে পায়ে চাপ পড়তে শুরু করে। চলাফেরার গতিও কমতে থাকে। বয়স্ক হাতিদের আর্থাইটিস বা গেঁটে বাত সাধারণ সমস্যা। হাতিরা মূলত আবেগপ্রবণ ও সামাজিক প্রাণী । দলছুট হাতিদের মধ্যে তীব্র অবসাদ দেখা দেয়। স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। 
চলতি বছরের ফ্রেবুয়ারি থেকেই রামালালের হাঁটাচলা করতে সমস্যা দেখা দিয়েছে । গোবিন্দপুর ও ভাউদার জঙ্গলে ছ’দিন ধরে শুয়ে ছিল রামলাল। সেপ্টেম্বরে মাসে মেদিনীপুর বনবিভাগের আড়াবাড়ি রেঞ্জের মিরগা বিট এলাকায় রামলালকে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানেই বাঁ পায়ে ক্ষতচিহ্ন ধরা পড়ে। বনবিভাগের চিকিৎসকরা কুমড়োর ভিতর ওষুধ ঢুকিয়ে রামলালকে খাওয়ায়। পায়ের ক্ষত স্থানেও লাগানো হয় ওষুধ। রামলাল দীর্ঘদিন ধরেই দলছুট। খাবারের সন্ধানে জঙ্গল ও গ্ৰামীণ এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দারা ভালবেসে খাবারও দেয়। ফলে অসুস্থ রামলাল সুস্থ হয়েই খাবারের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েছে। জেলার বাসিন্দারা সমাজ মাধ্যমে রামলালের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন করেছেন। বন্যপ্রাণী নিয়ে ঝাড়গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা গৌতম পান্ডা বলেন,বয়সের সঙ্গে হাতির নান ধরনের শারীরিক সমস্যা শুরু হয়। পায়ের নখ বাড়তে থাকে। যার জেরে পায়ের পাতা ক্ষয়ে ছড়ায় সংক্রমণ। জঙ্গলের মধ্যে চলাফেরার সময় হাতির পায়ের পাতা জখম হতে দেখা যায়। 
ঝাড়গ্রামের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনের কর্মী শ্যামসুন্দর মাহাত বলেন, রামলাল অসুস্থ। অসুস্থ শরীর নিয়েও সে খাবারের সন্ধান করছে দেখে খারাপ লাগছে। বনদপ্তর রামললাকে কিছুদিন ঘেরাটোপের মধ্যে রেখে চিকিৎসার সঙ্গে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করুক। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ