প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম জেলার জামবনী ও ঝাড়খণ্ডের সীমানার মধ্যস্থলে রামমন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। সোমবার কলসযাত্রার মধ্যে দিয়ে রামসেবা মন্দিরে থাকা মূর্তিগুলির প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। মন্দিরের উপরতলায় রাম, লক্ষ্মণ ও সীতার বিগ্ৰহ রয়েছে। হনুমানজির মূর্তি রয়েছে নিচেরতলায়। জামবনীর চিচিড়া ও পূর্ব সিংভূম জেলার দারিশোল গ্ৰামের বাসিন্দারা মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠার উৎসবে মেতে উঠেছেন।
রাম নামে মাতোয়ারা দুই রাজ্যের দু’টি ছোট গ্ৰাম। ঘরে ঘরে উৎসবের মহল। পাহাড়ী ডুলুং ও দেব নদীর সঙ্গমস্থল থেকে জল আনা হয়েছে। কলসযাত্রার মধ্যে দিয়ে মন্দিরে দেব বিগ্ৰহের প্রাণ প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। মঙ্গলবার সকালে স্নানকুণ্ডে মহা সমারোহে রাম, সীতা ও লক্ষ্মেণর মূর্তি দুধ, মধু ও গঙ্গাজলে জলাভিষেকের অনুষ্ঠান হয়। চাল দিয়ে হয় অন্নাভিষেক। সন্ধেবেলায় বিভিন্ন ফল দিয়ে হয় ফলাভিষেক। অভিষেক পর্বের পর রাতে রাম, সীতা ও লক্ষ্মণকে নতুন শয্যায় শোয়ানো হয়।
আজ, বুধবার ভোরে ব্রাহ্মমুহূর্ত থেকে হরিণাম সংকীর্তন শুরু হবে। চব্বিশ ঘণ্টা ধরে যজ্ঞের মধ্য দিয়ে বিগ্ৰহের প্রাণ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠান হবে। বৃহস্পতিবার চারদিন ধরে চলা প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠারে সমাপ্তি হবে। মন্দির প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকে তিনদিন ভক্তদের অন্নপ্রসাদ দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। মন্দির প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্যোক্তা আদিত্য প্রধান বলেন, চিচিড়া ও দারিশোল গ্ৰামের মধ্যবর্তী স্থলে রামসেবা মন্দির নির্মাণ হয়েছে। মন্দির নির্মাণে প্রায় আড়াই কোটি টাকা খরচ হয়েছে। চারদিন ধরে মন্দিরে বিগ্ৰহের প্রাণ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠান চলছে। মন্দির প্রতিষ্ঠার পিছনে সবচেয়ে বড় উদ্যোগ নিয়েছেন চন্দ্রশেখর সিংহ। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন দু’টি গ্ৰামের কমবেশি সকল বাসিন্দা।
ওই মন্দিরের অপর কর্মকর্তা অনিমেষ প্রামাণিক বলেন, রাম স্থানীয় মানুষের প্রাণপ্রিয় আরাধ্য দেবতা। কিন্তু রামের কোনো মন্দির ছিল না। গ্ৰামের মানুষের উদ্যোগেই মন্দির নির্মাণ হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে ভক্তদের জন্য তিনবেলা অন্নপ্রসাদ দেওয়া হচ্ছে। শেষ দিনে দুই রাজ্যের পাঁচ হাজার ভক্তের জন্য খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মন্দির স্থাপন ঘিরে দুই গ্ৰামের মানুষ আনন্দে মেতেছেন।



