


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: রামনবমীর মিছিল মানেই কর্মীদের উজ্জীবিত করার হাতেগরম মঞ্চ। কিন্তু এবার হুগলি সাংগঠনিক জেলায় ওই মিছিলকে ঘিরে উন্মাদনার পরিসর তৈরি করতে পারেনি পদ্মপার্টি। ভোট মরশুমে রামনবমীর মিছিলকে ঘিরে গেরুয়া বাহিনীকে অনেক ম্রিয়মান দেখিয়েছে। বিজেপির তত্ত্বাবধানে আয়োজিত একাধিক মিছিলে জমায়েতও উল্লেখযোগ্য ছিল না। ছিল না অতীতের স্বতঃস্ফূর্ততা। ভোটের আবহে যা পদ্মপার্টির অন্দরে চর্চার জন্ম দিয়েছে। কোথাও কোথাও নেতৃত্ব বিষয়টিকে দলের প্রতি আগ্রহ হারানো বলেও মনে করছে। যা দলের অন্দরে অশনিসংকেতের আভাস দিচ্ছে।
দলের নেতা-কর্মীদের একাংশের দাবি, তৃণমূলের কৌশলে বিজেপি কিস্তিমাত হয়েছে। গতবার থেকেই রামনবমীর শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া থেকে আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে তৃণমূল। এবারও তা ব্যতিক্রম হয়নি। ফলে রামনবমী নিয়ে যাঁরা মাতামাতি করতেন, তাঁরা দুই দলে বিভাজিত হয়ে গিয়েছে। একারণেই জিগির তোলার রাশ অনেকটাই সরে গিয়েছে বিজেপির হাত থেকে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি নেতা বলেন, ‘তৃণমূলও রামনবমীর মিছিল করতে নেমে পড়েছে। শাসকদলের কৌশলকে ধরতে না পারার কারণেই ভোট মরশুমে একতরফাভাবে এই কাজ করা যায়নি। উন্মাদনার পরিসর তৈরির হাতেগরম সুযোগ আমরা হারিয়েছি। আবার, কর্মীদের একাংশে নানা কারণে হতাশাও তৈরি হয়েছে। সেটাও একটি কারণ। যা ভালো লক্ষণ নয়।’
পরিস্থিতি বুঝে বিষয়টি সহজ হওয়ার চেষ্টা করেছেন বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, উন্মাদনা বা ভিড় কম ছিল বলে আমাদের মনে হয়নি। তবে রামনবমীর মিছিল তো বিজেপি আয়োজন করে না। নাগরিকরাই করেন। সেটি কোনো পরিকল্পনাপ্রসূত মিছিল নয়, সনাতনীদের নিজস্ব আবেগের জায়গা। তবে ভোট মরশুমে বিজেপি কর্মীদের রাজনৈতিক কাজের চাপ বেড়েছে। সেটা কোনোভাবে প্রভাব ফেলেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।
তৃণমূলের হুগলি জেলার চেয়ারম্যান তথা ধনেখালির বিদায়ী বিধায়ক অসীমা পাত্র বলেন, বিজেপি ধর্মের জিগির তুলে উন্নয়নের অভিমুখকে ঘুরিয়ে দিতে চেয়েছিল। মানুষ সেটা টের পেয়েছেন। বিজেপির রাম আর ভগবান রাম যে এক নয়,
তাও মানুষ বুঝেছেন। আমাদের কখনই রামনবমী নিয়ে কোনো আপত্তি ছিল না, সেটাও নাগরিক সমাজ অনুভব করেছে। তাতেই বিজেপির সমস্যা হয়েছে।
হুগলিতে রামনবমীকে ঘিরে মাতোয়ারা ভিড় গতবারও দেখা গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা ছিল, ভোট মরশুমের কারণে এবার তার বাড়বাড়ন্ত হবে। কিন্তু বাস্তবে উলটো চিত্রই দেখা গিয়েছে। বাঁশবেড়িয়া থেকে চুঁচুড়া, পাণ্ডুয়া থেকে চন্দননগর, সিঙ্গুরে মিছিলে উপস্থিতি ও উন্মাদনা কমে যাওয়ার দৃশ্য নেতৃত্বের চোখে স্পষ্ট ধরা পড়েছে। তবে রাজনৈতিক মহল ‘সমস্যা’র পিছনে আরও একটি কারণকে চিহ্নিত করছে। ওই মহলের দাবি, বামেদের আগ্রাসী অংশকে দেখে বিজেপির প্রতি মোহভঙ্গ হয়েছে কর্মীদের। ওই অংশের অনুপস্থিতি রামনবমীর মিছিলের উন্মাদনাকে হ্রাস করেছে।