সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: ১৮১ বছরে পড়েছে জয়নগরের ক্যান্মায়ন মাঝের বাড়ির দুর্গাপুজো। মা দুর্গার সঙ্গে পূজিত হন পিতলের রাম, লক্ষ্মণ ও সীতা। জয়নগর- মজিলপুর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে এই বনেদি বাড়ি। দুর্গাদালানে এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। প্রতিমা তৈরি চলছে। পরিবারের যেসব সদস্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন বিভিন্ন এলাকায়, তাঁরা পুজোর সময় বাড়িতে চলে আসেন।
পরিবারের সদস্য পুরোহিত প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের এক পূর্বপুরুষের ইচ্ছা অনুযায়ী দুর্গাপুজো শুরু হয়েছিল। বৈষ্ণব মতে আমাদের পুজো হয়, যজুর বেদ ধরে। এক চালায় শোলার সাজে মায়ের সাবেকি মূর্তি। নবমীর দিন চালকুমড়ো, আখ বলি হয়। অন্য কোনও বলি হয় না। পুজোর প্রত্যেক দিন মা-কে ঠিক দুপুর ১২ টার মধ্যে খিচুড়ি, পাঁচ রকমের ভাজা দেওয়া হয়। আবার দুপুর ৩টের মধ্যে মাকে সাদা ভাত, পাঁচ রকম তরকারি, পাঁচ রকম ভাজা, চাটনি, পায়েস দেওয়া হয়। এছাড়াও পোলাও ভোগও দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় লুচি, আলুর দম ভোগ হয়। প্রতিদিন ভোগ খেতে এলাকার মানুষজন আসেন। প্রদীপবাবু জানান, পুজোয় আমাদের নিত্যদেবতা নারায়ণ ও মহাদেবের পুজো হয়। অষ্টমীর দিন হয় কুমারী পুজো। কলাবউ স্নান আগে পুকুরে হতো। এখন তা বাড়িতেই হয়। নবমীর দিন সন্ধ্যায় মায়ের উদ্দেশ্য ঘুগনি, লুচি, মিষ্টান্ন দেওয়া হয়। এছাড়া আমাদের প্রতিমা বিসর্জন বাড়ির পাশের পুকুরেই হয়। নিজস্ব চিত্র