Bartaman Logo
৪ জুলাই, ২০২৬

রাহুলের ভাষণে বাধা রাজনাথ-অমিত শাহের

সোমবার সংসদে সরকারকে নাকানিচোবানি খাওয়ালেন রাহুল গান্ধী। রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রশ্নে মোদি সরকারকে সমালোচনার কাঠগড়া দাঁড় করালেন।

রাহুলের ভাষণে বাধা রাজনাথ-অমিত শাহের
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সোমবার সংসদে সরকারকে নাকানিচোবানি খাওয়ালেন রাহুল গান্ধী। রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রশ্নে মোদি সরকারকে সমালোচনার কাঠগড়া দাঁড় করালেন। তবে ডোকা লায় চীনের সঙ্গে ভারত সমঝোতা করেছে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় সরকার ব্যর্থ প্রমাণে প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল নারাভানের সাক্ষাৎকে উদ্ধৃত করা নিয়েই লোকসভায় বেঁধে গেল গোলমাল। উত্তাল হল সভা।

Advertisement

সভায় তখন উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী। রাহুলকে রুখতে রাজনাথ সিং, অমিত শাহ সাতবার উঠে দাঁড়িয়ে পালটা প্রতিবাদ করলেন। স্পিকার ওম বিড়লাকে অনুরোধ করলেন, বিরোধী দলনেতাকে রুখুন। এভাবে মিথ্যা বলে যেতে পারেন না। কোনও পত্রিকায় প্রকাশিত প্রাক্তন সেনাপ্রধানের বক্তব্য সামনে রেখে সরকার এবং দেশকে অপমান করতে পারেন না। যদিও রাহুলও একগুঁয়ে অবস্থান নিলেন। যতবার বলার জন্য মাইক অন হল, ততবারই নারাভানের বক্তব্যকে অস্ত্র করলেন। সরকার-বিরোধী হল্লায় দফায় দফায় তিনবার সভা হল মুলতুবি। শেষে সারাদিনের জন্য।

লোকসভায় এদিন রাহুলকে উসকান বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্য। রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে কংগ্রেসকে খোঁচা দিতে গিয়ে বলেন, ওরা দেশপ্রমিক হতে পারল না। ইউপিএর সময়ে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সরকার ছিল ব্যর্থ। মোদি সরকারই দেশকে রক্ষা করেছে। যেই না একথা বলা। সুযোগ পেয়ে পালটা সরব হলেন রাহুল গান্ধী। বিরোধী দলনেতার বক্তব্য শুনতে হাজির হন প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। লোকসভায় তখন পূর্ণ ট্রেজারি বেঞ্চ।

আক্রমণের অস্ত্র হিসাবে রাহুল তুলে নেন ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনের আগ্রাসনের ইস্যু। যদিও বিজেপির দাবি, রাহুলের ওই বক্তব্য ভিত্তিহীন। পালটা রাহুলের প্রশ্ন, তাহলে বলে দিন জেনারেল নারাভানে যা বলেছেন তা সত্যি নয়। তাঁর বই কেন প্রকাশ করতে দেননি? কেনই বা আমাকে বলতে দিচ্ছেন না? উলটে বলছেন, আমরা নাকি দেশপ্রেমী নয়।

বক্তৃতায় প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নরওয়ানের ‘অপ্রকাশিত’ বই ‘ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি’র একাংশ পড়তে শুরু করেন রাহুল। ২০২৪ সালে বইটির আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষমেশ তা আর হয়নি। তবে ওই বইয়ের অংশ সম্প্রতি ইংরেজি একটি ম্যাগাজ়িনে প্রকাশ পেয়েছে। ৪৪৮ পাতার ওই বইয়ে নরওয়ানের দাবি, ২০১৭ সালে ডোকা লায় ভারত এবং চিনের সেনা যখন মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে, তখন বেজিঙের সাঁজোয়া গাড়ি ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছিল।

যেই না বলা, প্রতিবাদে নিজের আসন থেকে উঠে দাঁড়ালেন রাজনাথ সিং।  বললেন, যে বই প্রকাশই হয়নি, সেটি কী করে উল্লেখ করছেন? একইভাবে সরব হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রাহুল অভিযোগ করেন, মাইক বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। বলতে তো দিন। আমি প্রমাণ করে দেব, কীভাবে এই সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা দুর্বল করেছে। মন্ত্রীরা এরপরঅই একযোগে রাহুলকে থামাতে উঠেপড়ে নামেন। সভায় উপস্থিত তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি অবশ্য কিছু বলেননি। প্রথম দফার মুলতুবি হতেই তিনি লোকসভা থেকে বেরিয়ে যান। ছবি: পিটিআই

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ