বেঙ্গালুরু, ২৮ জুন: চলন্ত গাড়িতে হঠাত্ বিস্ফোরণ। মুহূর্তের মধ্যে দাউ দাউ করে আগুনে জ্বলে ওঠে গোটা গাড়ি। বিস্ফোরণের ঠিক আগে আঁচ পেয়েই গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে প্রাণে বাঁচলেন এক তরুণী। তবে আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এক যুবকের। রবিবার সকালে কর্নাটকের তুমাকুরু জেলার ৪৮ নম্বর জাতীয় সড়কে এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
মৃতের নাম নাগেন্দ্র (৩০)। গুরুতর আহত অবস্থায় গাড়ির চালক প্রবীণকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের দাবি, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত আত্মঘাতী হামলার ঘটনা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর কন্নড় জেলার আঙ্কোলার বাসিন্দা নাগেন্দ্রর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক ছিল রম্যা নামে এক তরুণীর। বেঙ্গালুরুতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ল্যাব ও ওটি টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত রম্যা বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন নাগেন্দ্র। অভিযোগ, শনিবার সকালে বেঙ্গালুরুর জয়নগর এলাকার একটি পেয়িং গেস্ট আবাসন থেকে জোর করে রম্যাকে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যান তিনি। ঘটনাটি দেখে রম্যার এক বন্ধু অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর গাড়িটি জাতীয় সড়ক ৪৮ ধরে আঙ্কোলার দিকে রওনা দেয়। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, নাগেন্দ্র গাড়ির ভিতরে বিস্ফোরক নিয়ে উঠেছিলেন। চলন্ত অবস্থায় সেই বিস্ফোরক থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনে পুড়ে যায় গাড়িটি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় নাগেন্দ্রর। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল থেকে আরও একটি তাজা বোমাও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, নাগেন্দ্র কী ভাবে কোথায় বোমা পেয়েছিল তা পুলিশ তদন্ত করছে। বেঙ্গালুরুর সিদ্ধাপুরা থানার পুলিশ এবং তুমাকুরুর কল্লামবেলা থানার পুলিশ যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত করছে। আহত রম্যা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।