নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: যে রামমন্দির নির্মাণ ছিল বিজেপির চিরকালীন স্বপ্ন এবং ১৯৯০ সাল থেকে যে অযোধ্যা আন্দোলন তাদের মাত্র ২ এমপির দল থেকে সরকারে আসীন করে দিয়েছিল, সেই রামমন্দিরেই চুরি হয়েছে! তাও আবার মন্দির ট্রাস্টের নাকের ডগায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিখ্যাত স্লোগান ছিল, না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা। অথচ মধ্যপ্রদেশে বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের বিরুদ্ধেই উঠেছে জমি দুর্নীতির অভিযোগ। একের পর এক অস্বস্তিকর ঘটনার পর শনিবার স্বয়ং মোদির মন্ত্রিসভার সদস্যের বিরুদ্ধেই সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠল। কৃষিমন্ত্রকের একটি বিশেষ প্রকল্পে প্রদান করা সরকারি ভরতুকির টাকা নিজের কৃষিফার্মকেই পাইয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী ভগীরথ চৌধুরী। তাও আবার এক-দু’লক্ষ নয়, প্রায় এক কোটি টাকা! প্রাণিবিকাশ ও মৎস্য মন্ত্রকের আধিকারিকও নিজের পরিবারকে একইভাবে ভরতুকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে মোদি সরকার তথা বিজেপির বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্র থেকে রাজ্য, সর্বত্র বিজেপি প্রশ্রয় দিচ্ছে দুর্নীতিকে। কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরা বলেছেন, ‘বিজেপি এবং মোদি সরকারের ভরতুকি নেতামন্ত্রীর ঘর থেকেই শুরু হয়। চূড়ান্ত লুট চলছে।’
অভিযোগের ভরকেন্দ্র ‘মিশন ফর ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অব হর্টিকালচার’ প্রকল্প। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পরই এটি চালু হয়। লক্ষ্য ছিল উদ্যানপালন সংক্রন্ত যে-কোনো কৃষি উৎপাদনের বাণিজ্যিক উদ্যোগকে সম্প্রসারিত করা। প্রকল্পটি পরিচালনা করে কৃষিমন্ত্রকের অধীন ন্যাশনাল হর্টিকালচার বোর্ড। সেটি ভগীরথ চৌধুরীর দায়িত্বে। সুতরাং প্রকল্পও সরাসরি তাঁর আয়ত্তাধীন। এর অধীনে সবজির মধ্যে ক্যাপসিকাম, শশা, টম্যাটো এবং আটরকম ফুলের বাণিজ্যিক উৎপাদনে কেন্দ্রীয় সরকার সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা করে ভরতুকি প্রদান করে থাকে। ব্যক্তিগত কৃষক, স্বনিযুক্ত গোষ্ঠী, সমবায়, কৃষি গোষ্ঠী, কৃষক পরিবাররা তা পেতে পারে। রাজস্থানের বিজেপি এমপি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভগীরথ এই ভরতুকিই নিজের পারিবারিক ফার্মের জন্য অনুমোদন করে দিয়েছেন। দিদওয়ালা কুচমান জেলায় রয়েছে তাঁর এই কৃষি ফার্ম। সেটির জন্য ৯৯ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকা ভরতুকি দেওয়া হয়েছে। প্রাণিবিকাশ ও মৎস্য মন্ত্রকের এক আধিকারিকও একইভাবে নিজের পরিবারের সদস্যদের পাইয়ে দিয়েছেন ভরতুকি। যদিও এতে অনিয়ম হয়নি বলেই দাবি ভগীরথের। তিনি বলেন, ‘সরকারের যতরকম বিধিনিয়ম ও শর্ত আছে, তার প্রত্যেকটি পূরণ করেই ভরতুকি পেয়েছি। ২০১৮ সালে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু ভরতুকি পেয়েছি ২০২৫ সালে।’ নিজের মন্ত্রকের প্রদান করা ১ কোটি টাকা ভরতুকি নিজের ফার্মকেই অনুমোদন করাকে তিনি দুর্নীতি বলে মনে করছেন না। তাঁর দাবি, ‘আমি কৃষক। গোপনে কিছুই করিনি। প্রতিটি ধাপে ভেরিফিকেশন হয়েছে আবেদনের। বিরোধীরা অযথা কালিমালিপ্ত করছে।’ যদিও সিপিএমের রাজ্যসভার এমপি জন ব্রিটাস বলেছেন, এটা হল মোদি সরকারের মন্ত্রীদের জন্য ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার প্রকল্প!