Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কল্যাণ-রাজীব সাক্ষাৎ, ছাব্বিশের নির্বাচনে নয়া সমীকরণ নিয়ে চর্চা

রবিবার শ্রীরামপুরের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে এসে সাক্ষাৎ করে গেলেন দলের নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।

কল্যাণ-রাজীব সাক্ষাৎ, ছাব্বিশের নির্বাচনে নয়া সমীকরণ নিয়ে চর্চা
  • ১০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: রবিবার শ্রীরামপুরের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে এসে সাক্ষাৎ করে গেলেন দলের নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। কার্যত বহু বছর পরে দু’জনের এক ‘মঞ্চে’ উপস্থিত হওয়ার ওই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। 

Advertisement

বস্তুত, সাবেক তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী রাজীব, গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন। পরে তৃণমূলে ফিরেও আসেন। মন্ত্রী থাকার সময়ে রাজীব হাওড়ার ডোমজুড়ের বিধায়ক ছিলেন। ওই বিধানসভা আসনটি কল্যাণের সংসদীয় এলাকার অন্তর্গত। তৃণমূলের অন্দরের দাবি, রাজীবকে দল ফের নিলেও সাংসদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের শৈত্য ছিলই। গত লোকসভা নির্বাচনেও দুই নেতাকে তাই একমঞ্চে দেখা যায়নি। এদিন সাক্ষাৎ পর্ব সেই বরফ গলাতে পারল কি না, তা নিয়েই চর্চা শুরু হয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এদিন রাজীবের সঙ্গে হুগলির উত্তরপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক প্রবীর ঘোষালও এসেছিলেন। প্রবীর নিজেও বিজেপিতে গিয়েছিলেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি পদ্ম প্রতীকে লড়ে হেরেও যান। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তিনি ফের তৃণমূলে যোগ দেন। 
তৃণমূলের অন্দরের চর্চা, তৃণমূলে রাজীবের ‘মেন্টর’ ছিলেন প্রবীর। ফলে, রাজীবের সঙ্গে তাঁর উপস্থিতি আরও কিছু জল্পনা উস্কে দিয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূল ইতিমধ্যেই আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছে। সেই সময়েই এদিনের বিশেষ সাক্ষাৎ পর্ব আলাদা মাত্রা রাখে বলেই ওয়াকিবহাল মহলের দাবি।
দুই নেতাই এদিন সাক্ষাৎ পর্ব নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন। এদিন কল্যাণ বলেন, রাজীব আগেই দলে ফিরে এসেছে। এদিন সে আমার কাছে অতীতের ‘ভুল’-এর জন্য ক্ষমা চেয়েছে। ওর সঙ্গে আমার কোনও ব্যক্তিগত সমস্যা ছিল না। দল ওকে যথেষ্ট সম্মান দিয়েছিল, এমনকী মন্ত্রীও করেছিল। তারপরেও রাজীব দল ছেড়ে যাওয়ায় আমি কষ্ট পেয়েছি। দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ওঁকে দলে নিয়েছেন, এনিয়ে আমার কিছু বলার নেই। ও বরাবর আমাকে সম্মান দিয়েছে, আমিও ওকে আমার ছোট ভাইয়ের মতোই দেখি। সকলে একসঙ্গে কাজ করব, অসুবিধা নেই। 
অন্যদিকে রাজীব বলেন, আমি দল বদল করেছিলাম বলে কল্যাণদার অভিমান হয়েছিল। ফলে, একটা দূরত্ব ছিল। এদিন সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছিলাম। দাদা, বুকে টেনে নিয়েছেন। দাদা-ভাইয়ের সম্পর্কের মধ্যে মান-অভিমান, রাগ-ক্ষোভ থাকতেই পারে। আগামীতে আমরা একসঙ্গেই কাজ করব। আশা করব, দাদা আমাকে ভাইয়ের মতোই স্নেহ দেবেন।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনের সাক্ষাৎকার পূর্ব নির্ধারিত ছিল। দলীয় কাজের জন্য সাংসদ কল্যাণ এদিন তাঁর শ্রীরামপুরের অফিসেই ছিলেন। সেখানেই রাজীব আসেন। দুই নেতার মধ্যে একান্তে দীর্ঘসময় কথা হয়। এদিনের সাক্ষাৎকার আগামী বিধানসভা নির্বাচনের জন্য কোনও বিশেষ ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়েই এদিন দুপুর থেকে তৃণমূলের অন্দরে চর্চা শুরু হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ