Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিশ্বভারতীতে রজতকান্ত রায়ের অবদান ফের আলোচনায়, বিশেষ উপাসনা শীঘ্রই

প্রাক্তন উপাচার্য রজতকান্ত রায়ের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বিশ্বভারতী ও শান্তিনিকেতন। বুধবার কলকাতায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন

বিশ্বভারতীতে রজতকান্ত রায়ের অবদান ফের আলোচনায়, বিশেষ উপাসনা শীঘ্রই
  • ৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: প্রাক্তন উপাচার্য রজতকান্ত রায়ের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বিশ্বভারতী ও শান্তিনিকেতন। বুধবার কলকাতায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রজতকান্ত রায় ২০০৬ থেকে ২০১১ পর্যন্ত বিশ্বভারতীর উপাচার্য ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ। 

Advertisement

বিশ্বভারতীর উন্নয়ন ও সংস্কারের যে কজন উপাচার্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম এই ইতিহাসবিদ। রজতকান্ত রায়ের আমলে বিশ্বভারতীর সংস্কারের খাতে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিং ৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলেন। রজতবাবুর মৃত্যুতে সেই ঐতিহাসিক অনুদানের প্রসঙ্গ ফের আলোচনায়। কারণ, বিশ্বভারতীকে সেন্টার অব এক্সেলেন্স হিসেবে গড়ে তোলার অন্যতম কারিগর ছিলেন রজতকান্ত রায়। রজতবাবুর আমলে বিশ্বভারতীর আচার্য পদে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। যিনি ২০০৮ সালের ৬ ডিসেম্বর আম্রকুঞ্জে সমাবর্তনে ঘোষণা করেছিলেন, বিশ্বভারতীকে তার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি ফিরিয়ে দিতে ও একে উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছিলাম। সেই কমিটির সুপারিশ অনুসারে বিশ্বভারতী যে প্রাথমিক পরিকল্পনা তৈরি করেছে, তার বাস্তবায়নের জন্য ৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আচার্য হিসেবে সেই অনুদানের কথা তিনি ঘোষণা করতেই বিশ্বভারতীতে খুশির হওয়া ছড়িয়ে পড়ে। ওইদিন আচার্যের ভাষণে প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বিশ্বভারতীর উন্নয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আগেও উদারহস্তে অনুদান দিয়েছে। অর্থের কোনও অভাব নেই, বরং এই সম্পদের সদ্ব্যবহারই এখন জরুরি। বলাবাহুল্য, সেই ৯৫ কোটি টাকার অনুদান বিশ্বভারতীর সংস্কারে বড় ভূমিকা নিয়েছিল। নতুনভাবে সেজে ওঠে বিশ্বভারতী। প্রতিষ্ঠিত হয় ভাষা ভবন। রজতবাবু সেই টাকার সদ্ব্যবহার করেছিলেন। স্বভাবতই, প্রাক্তন উপাচার্যের প্রয়াণে শোকাহত বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী, বর্তমান ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরা। এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ আধিকারিক বলেন, রজতবাবু আমারও মাস্টার মশাই ছিলেন। তিনি ছিলেন ইতিহাসের দিকপাল পণ্ডিত। যার বই না পড়লে আধুনিক ভারতবর্ষের ইতিহাস সম্পূর্ণভাবে জানা যায় না। তাঁর মৃত্যু শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা শোকস্তব্ধ। বিশ্বভারতীর রীতি ও ঐতিহ্য মেনে খুব তাড়াতাড়ি তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ উপাসনার আয়োজন করা হবে।
• ইতিহাসের পাতায়: বিশ্বভারতীর সমাবর্তন উৎসবে আচার্য মনমোহন সিংহের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের হয়ে ছাতিম পাতা নিচ্ছেন প্রাক্তন উপাচার্য রজতকান্ত রায়। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ