জয়পুর: একটা ক্যাচ ফেলার খেসারত কত বড় হতে পারে সেটা নিশ্চয়ই হাড়ে হাড়ে বুঝছেন রিয়ান পরাগ। আর ব্যাটসম্যানের নাম যদি হয় বিরাট কোহলি, তাহলে তো কথাই নেই! রবিবার ঘরের মাঠে ১৭৪ রানের টার্গেট দিয়েও ৯ উইকেটে হারল রাজস্থান রয়্যালস। এর জন্য বোলাররা যেমন দায়ী, তেমনই ফিল্ডিংও ডুবিয়েছে মরুরাজ্যের দলটিকে।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে রাজস্থান। দুই ওপেনার সঞ্জু স্যামসন ও যশস্বী জয়সওয়াল ধীরে ধীরে উইকেটে থিতু হয়ে বড় স্কোর খাড়া করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু রান রেট সচল রাখার চেষ্টায় তুলে মারতে গিয়েই সঞ্জু (১৫) আউট হন। ধাক্কা সামলে দলকে টেনে তোলেন যশস্বী। দুর্দান্ত হাফ-সেঞ্চুরিও পূর্ণ করেন। রিয়ানের সঙ্গে বড় পার্টনারশিপ গড়ে বেঙ্গালুরুর বোলারদের চাপে ফেলাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। কিন্তু সেই প্রয়াস ধাক্কা খায় রিয়ান ৩০ রানে দয়ালের বলে কোহলির হাতে ধরা পড়ায়। জয়সওয়াল অবশ্য রানের গতিতে লাগাম টানতে দেননি। তিনি শেষ পর্যন্ত ৭৫ রানে আউট হন। ধ্রুব জুরেল ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন। রাজস্থান তোলে ৪ উইকেটে ১৭৩।
সোয়াই মান সিং স্টেডিয়ামের পিচ ছিল বড়ই মন্থর। একটু ভুলচুক হওয়া মানেই ঠিকানা ডাগ-আউট। কিন্তু ক্রিকেটীয় ব্যাকরণ ফিল সল্টের মতো ব্যাটারদের ক্ষেত্রে খাটে না। তাঁরা ছন্দে থাকা মানে বিপক্ষ দলের বোলারদের কালঘাম ছোটা। সেই অবস্থাই হল রাজস্থানের বোলারদের। বিশেষ করে জোফ্রা আর্চারের মতো ফর্মে থাকা পেসারদের তুলোধনা করলেন সল্ট। তবে চতুর্থ ওভারে সন্দীপ শর্মার প্রথম ডেলিভারিতে কোহলির সহজ ক্যাচ রিয়ান না ফেললে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতেও পারত। সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ভুল হয়নি কিং কোহলির। ২৮ বলে হাফ-সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন সল্ট। কোহলিও ছক্কা মেরে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। সল্ট ৬৫ রানে আউট হওয়ার পর দেবদূত পাদিক্কালের সঙ্গে জুটিতে জয়ের কড়ি জোগাড় করে নেন কোহলি। ৬২ রানের ইনিংসে চারটি চার ও দু’টি ছক্কা হাঁকান ভিকে, থাকেন নট-আউট। পাদিক্কালের সংগ্রহ ২৮ বলে অপরাজিত ৪০। ১৫ বলে বাকি থাকতেই ম্যাচ পকেটে পুরে ফেলার সুবাদে নেট-রান রেটেও উন্নতি হল বেঙ্গালুরুর। ৮ ম্যাচ খেলে ৬ পয়েন্ট নিয়ে কোহলিরা আপাতত প্রথম চারে জায়গা ধরে রাখতে সফল। অনেকটা পিছিয়ে গেল রাজস্থান রয়্যালস (৬ ম্যাচে ৪টি জয়)।