সংবাদদাতা, ঘাটাল: বাইরে ঝমঝম বৃষ্টি। আর সেই বৃষ্টির জল ঠেকাতে বাসের ভিতরেই ছাতা খুলে বসতে হচ্ছে যাত্রীদের। ঘাটাল মহকুমার রাস্তাগুলিতে বাসযাত্রীদের এই দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়। সোমবার গোয়ালতোড় থেকে ঘাটাল হয়ে হাওড়া গামী একটি যাত্রীবাহী বাসে ফের এমনই দৃশ্য দেখে যাত্রীরা বেজায় চটে গিয়েছেন। এদিন তাঁরা বাসের মধ্যেই বাসকর্মীদের উপর চড়াও হন। যাত্রীদের প্রশ্ন, বাসের ছাদ চুঁইয়ে জল ঢুকছে, আর যাত্রীরা বাধ্য হয়ে মাথায় ছাতা ধরে বসে আছেন। টাকা দিয়ে টিকিট কেটে এই অব্যবস্থা কোনোভাবেই মানা যায় না। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিবহণ যাত্রী কমিটির যুগ্ম সম্পাদক তপন জানা বলেন, এটা কোনো নতুন ঘটনা নয়। আমরা এনিয়ে অনেক বার প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। বাসটির ফিটনেস ঠিক থাকলে এমন হত না। তাই স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে, যে বাসে যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছনোর কথা, সেই বাসের ছাদই যদি আস্ত না থাকে, তাহলে সেটি রাস্তায় নামার অনুমতি পায় কীভাবে? ঘাটাল মহকুমা অতিরিক্ত আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, কোনো বাসের ফিটনেস পরীক্ষার সময় সব কিছুই খুঁটিয়ে দেখতে হয়। কিন্তু কোন বাসে ওই সমস্যা হয়েছে খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত হবে।প্রসঙ্গত, রবিবার রাত থেকেই রাজ্যের সঙ্গে ঘাটাল মহকুমায় নিম্নচাপের জেরে বৃষ্টি হচ্ছে। ওই বাসের এক যাত্রী ক্ষীরপাইয়ের বাসিন্দা পলাশ ঘোষ, বরদার কিংশুক জানারা বলেন, ওই বাসের ভিতরটা পুরানো খড়ের চালার মতো লাগছিল। যাত্রীদের মাথার উপর বৃষ্টি পড়ছিল। কিছু যাত্রী বৃষ্টি আটকাতে ছাতা মাথায় বসে ছিলেন।নিয়ম বলছে, যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক বাসকে নিয়মিত পরীক্ষা করিয়ে ফিটনেস সার্টিফিকেট বা এফসি নিতে হয়। বাসের বয়স বাড়লে নির্দিষ্ট সময় অন্তর সেই শংসাপত্রের নবীকরণও বাধ্যতামূলক। ১৫ বছরের বেশি পুরানো বাণিজ্যিক যানবাহনের ক্ষেত্রে বছরে দু’বার ফিটনেস পরীক্ষার বিধান রয়েছে। যাত্রীদের প্রশ্ন, ফিটনেস কি তবে শুধুই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ? নাকি যাত্রীদের নিরাপত্তা যাচাইয়ের সময় বাসের ছাদটুকু অন্তত খতিয়ে দেখার প্রয়োজন বোধ করেন না কর্তারা? এনিয়ে বাস মালিক সংগঠনের নেতা প্রভাত পান বলেন, অঝোরে বৃষ্টি হলে কিছু কিছু বাসে এমন সমস্যা হয়। তবে ওই বাসটির ফিটনেস ঠিক আছে কি না খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। -নিজস্ব চিত্র



