সংবাদদাতা, লালবাগ: পুজোর মুখে গত কয়েকদিনের নিম্নচাপের টানা বৃষ্টিতে লালবাগ মহকুমার গাঁদাফুল চাষিদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ইতিমধেই কয়েকটি এলাকায় নিচু জমিতে জল জমেছে। চাষিদের আশঙ্কা এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে জমিতে জল দাঁড়িয়ে ফুল গাছের গোড়া পচন শুরু হবে। ফলে শুকিয়ে মারা যাবে বিঘের পর বিঘে ফুল গাছ। স্বাভাবিকভাবেই আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রাতের ঘুম উড়েছে চাষিদের। এই বিষয়ে জেলা উদ্যানপালন আধিকারিক প্রিয়রঞ্জন সন্নিগ্রাহী বলেন, টানা বৃষ্টিতে কয়েকটি এলাকার নিচু জমিতে জল দাঁড়িয়েছে। তা সত্ত্বেও এখনই বিশেষ ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। তবে আরও বৃষ্টি হলে এবং জমিতে জল জমে থাকলে সেক্ষেত্রে ফুলগাছের ক্ষতি হতে পারে। ক্ষতি এড়াতে চাষিদের নিজেদের উদ্যোগে জমির জল বের করার ব্যবস্থা করতে হবে।
লালবাগ মহকুমার রণসাগর, কমলবাগ, নশিপুর, সন্ন্যাসীতলা, কুর্মিটোলা প্রভৃতি এলাকায় এক দশকের বেশি সময় ধরে ধান, পাট ও সবজি চাষের পাশাপাশি বছরভর গাঁদা ফুলের চাষ হচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গাঁদা ফুলের চাহিদা থাকায় মহকুমার বিভিন্ন প্রান্তের একটা অংশের চাষি গাঁদা ফুল চাষকেই জীবিকা হিসেবে বেছে নিয়েছেন । তাদের দাবি, গাঁদা ফুল চাষে খরচ ও ঝুঁকি দুইই কম। একবার লাগালে বেশ কয়েক মাস ধরে অর্থাগম হয়। কাজেই লালবাগের ফুল চাষিরা পুজো সহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের দিকে চেয়ে তাঁকিয়ে থাকেন। কমলবাগের ফুলচাষি পরেশ মণ্ডল বলেন, গত কয়েক বছর ধরে প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় লাভের মুখ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। লাভ তো দূরের কথা চাষের খরচ তুলতেই রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। আগস্টের প্রথম দিকে দিন কয়েকের বৃষ্টিতে কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল। আবার, গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিতে জমিতে জল জমেছে। জল না নামলে গাছের গোড়া পচতে শুরু করবে। মনে হচ্ছে পুজোর আগে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে গেলাম। নশিপুরের ফুলচাষি রবীন দাস বলেন, পুজোর মরসুমে ভালো মুনাফার আশায় দুই বিঘা জমিতে ফুলচাষ করেছি। মাসখানেক আগে থেকে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। ফুল বিক্রি করে কিছু লক্ষ্মীলাভও হয়েছে। কিন্তু পুজোর মুখেই টানা ভারী বৃষ্টিতে জমিতে জল দাঁড়িয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে চরম ক্ষতি হবে। হরিগঞ্জের ফুল চাষি রাকেশ মণ্ডল বলেন, দুর্গাপুজো থেকে পরবর্তী কয়েক মাস ধরে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান লেগেই থাকে। কাজেই ওই সময়ে চাহিদা থাকায় ভালো রোজগার হয়। দুদিন ধরে জমিতে জল জমে রয়েছে। আরও কয়েকদিন থাকলে গাছগুলিকেই বাঁচানো যাবেনা। সন্ন্যাসীতলার কিসমত শেখ বলেন, সারা বছর অন্যান্য পুজো ও সামাজিক অনুষ্ঠান থাকলেও মোটা অঙ্কের লাভের জন্য দুর্গাপুজোর দিকে তাঁকিয়ে থাকি। বর্ষায় সেভাবে বৃষ্টির দেখা পাওয়া যায়নি। অথচ পুজোর আগে নিম্নচাপের ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।