কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: এল নিনোর ‘ভ্রকুটি’ এখনও আছে। তবে তা সত্বেও দেশে সার্বিকভাবে আগস্টের প্রথমার্ধে বৃষ্টি মোটামুটি হচ্ছে। বৃষ্টি হওয়ায় দেশে খরিফ ফসল চাষের পরিমাণ বাড়ছে। এল নিনোর জেরে দেশে এবার বৃষ্টি কম হলে খরিফ চাষে তার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে খুবই আশঙ্কা ছিল। তা নিয়ে চিন্তায় ছিল সরকার থেকে শিল্প-বাণিজ্য মহল। তবে আপাতত পরিস্থিতি মোটামুটি ঠিক আছে। যদিও ধান, ডাল, তৈলবীজ, মোটা দানাশস্য প্রভৃতির চাষের জমি এখনও স্বাভাবিকের থেকে কিছুটা কম। তবে আগস্ট মাসে আরও কিছুদিন সময় আছে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহের পরিসংখ্যান এলে স্বাভাবিকের থেকে কম জমিতে চাষ হল কিনা তা পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রক সূত্রে ৮ আগস্টের যে পরিসংখ্যান পাওয়া গিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ফসলের চাষের জমির পরিমাণ তার ৭ দিনের আগের তুলনায় বেড়েছে। যেমন ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৩ কোটি ১ লক্ষ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছিল। সেটা বেড়ে হয়েছে ৩ কোটি ৪৫ লক্ষ হেক্টর। যদিও দেশে ধান চাষের স্বাভাবিক জমির পরিমাণ হল ৪ কোটি ১২ লক্ষ হেক্টর। ডাল, তৈলবীজ, মোটা দানাশস্য প্রভৃতির চাষ অবশ্য ধানের তুলনায় ভালো হয়েছে। ডাল চাষের স্বাভাবিক জমির পরিমাণ ১ কোটি ২৩ লক্ষ হেক্টর। সেখানে ৮ আগস্ট পর্যন্ত ১ কোটি ৩ লক্ষ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। ৩১ জুলাই পর্যন্ত এর পরিমাণ ছিল ৯৫ লক্ষ হেক্টর। তৈলবীজ চাষের স্বাভাবিক জমির পরিমাণ প্রায় ২ কোটি হেক্টর। সেখানে ১ কোটি ৮০ লক্ষ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। ৩১ জুলাই পর্যন্ত ১ কোটি ৭২ লক্ষ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছিল। মোটা দানাশস্য চাষের স্বাভাবিক জমির পরিমাণ ১ কোটি ৮৩ লক্ষ হেক্টর। সেখানে ৩১ জুলাই ১ কোটি ৫৮ লক্ষ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছিল। ৮ আগস্ট তা বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ৬৯ লক্ষ হেক্টর। পাট, আখের চাষ ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে স্বাভাবিকের থেকে কিছুটা বেশি হয়ে গিয়েছিল। তুলো চাষ ৮ আগস্ট পর্যন্ত স্বাভাবিকের থেকে কিছুটা কম হয়েছে। তবে মধ্য ও পশ্চিম ভারতে বৃষ্টি বেশি হওয়ায় তুলো চাষের জমি এবার স্বাভবিক থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।