নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জুন মাসে দক্ষিণবঙ্গের তিন জেলা—মুর্শিদাবাদ, নদীয়া ও পূর্ব মেদিনীপুরে বৃষ্টির ঘাটতি ছিল। কিন্তু বাকি জেলাগুলিতে বৃষ্টি হয়েছে অনেকটাই বেশি। অর্থাৎ সার্বিকভাবে দক্ষিণবঙ্গে বর্ষাকালের প্রথম মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে, মালদহ ছাড়া সব জেলাতেই বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। সার্বিকভাবে উত্তরবঙ্গে স্বাভাবিকের তুলনায় ২৩ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে।
বৃষ্টিপাতের এই পার্থক্যের কারণ কী? আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, জুন মাসে বঙ্গোপসাগরে যে নিম্নচাপগুলি সৃষ্টি হয়ে দক্ষিণবঙ্গের উপর এসেছে তার গতিপ্রকৃতির কারণে এটা হয়েছে। নিম্নচাপগুলির অভিমুখ পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে হওয়ার কারণে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। জুনে রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে বৃষ্টি (৫৫৫.৩ মিমি) হয়েছে বাঁকুড়ায়। সেখানে স্বাভাবিকের চেয়ে ১২০ শতাংশ বৃষ্টি হয়েছে। পুরুলিয়া জেলায় এমাসে ৪৭০.৬ মিমি (স্বাভাবিকের চেয়ে ১০২ শতাংশ বেশি) বৃষ্টি হয়েছে। সেখানে মুর্শিদাবাদে ১৪০.১ মিমি (স্বাভাবিকের চেয়ে ৩৬ শতাংশ কম), নদীয়ায় ১৫৪.৩ মিমি (২৭ শতাংশ কম) এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ২১৭.৪ মিমি (২১ শতাংশ কম) বৃষ্টি হয়েছে। কলকাতায় জুন মাসে বৃষ্টি হয়েছে ২৪১.৫ মিমি। এটা স্বাভাবিকের চেয়ে ১৫ শতাংশ কম।
এদিকে দক্ষিণবঙ্গের উপর যে নিম্নচাপটি ছিল সেটি মঙ্গলবার ঝাড়খণ্ডের উপর সরে গিয়েছে। নিম্নচাপ সরে গেলেও মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার ফলে আগামী কয়েকদিন রাজ্যজুড়ে হাল্কা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি চলবে। কোথাও কোথাও মাঝে মাঝে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার থেকে পরের সপ্তাহে বৃহস্পতিবারের মধ্যে উত্তর বঙ্গোপসাগরে ফের একটি ঘূর্ণাবর্ত বা নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এটিও উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হবে বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, দক্ষিণবঙ্গে যখন বেশি মাত্রায় বৃষ্টি হয় তখন উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কমে যায়। বর্ষকালীন অক্ষরেখা এখন দক্ষিণবঙ্গে বেশি সক্রিয়। নিম্নচাপের প্রভাব দক্ষিণবঙ্গেই পড়েছে। মালদহ ছাড়া উত্তরবঙ্গের সব জেলায় জুন মাসে স্বাভাবিকের থেকে কম বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু উত্তরবঙ্গে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণটাই অনেকটা বেশি। বর্ষাকালে সেখানে স্বাভাবিক বৃষ্টিতেই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায়। যেমন আলিপুরদুয়ারে জুন মাসে ৪৭৮.৪ মিমি বৃষ্টি হয়েছে, যা স্বাভবিকের চেয়ে ৩৬ শতাংশ কম।