নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: নিম্নচাপের গতি কম। নির্দিষ্ট জায়গায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে নিম্নচাপ। এই কারণেই দক্ষিণবঙ্গে এত বৃষ্টি। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস এমনটাই জানিয়েছেন। সপ্তাহের প্রথমে দক্ষিণবঙ্গে এত বৃষ্টির পূর্বাভাসও ছিল না। অতীতে এইসময়ে এর চেয়েও শক্তিশালী নিম্নচাপ সৃষ্টির রেকর্ড। কিন্তু তা দ্রুত সরে গিয়েছিল। এবারের নিম্নচাপ তুলনামূলকভাবে কম শক্তিশালী হলেও গতি কম থাকার জন্যই ভাসল দক্ষিণবঙ্গ।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর সৃষ্ট নিম্নচাপ খুবই ধীর গতিতে উত্তর-পশ্চিমের দিকে সরছে। সেই কারণেই বড় অংশে মেঘ তৈরি হয়েছে। সেখান থেকেই বৃষ্টি। আজ, বুধবার বৃষ্টির দাপট কমবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যদিও কিছু জেলায় হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গ বৃষ্টিতে ভিজলেও উত্তরে কিন্তু গরম অব্যাহত। এদিকে, প্রবল বৃষ্টির মাঝে মঙ্গলবার সকালে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে মারা গেলেন নামখানা থানার দক্ষিণ চন্দনপিঁড়ির বাসিন্দা প্রদ্যুত্ মণ্ডল (৬২)। সূত্রের খবর, দু’দিন ধরে নামখানা এলাকায় টানা বৃষ্টিতে বহু জায়গায় ধানের বীজতলা ডুবেছে। মঙ্গলবার সকালে বৃষ্টি কমলে প্রদ্যুৎবাবু পাম্প চালিয়ে জমির জল কমাতে মাঠে গিয়েছিলেন। পাম্পের তারেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। গ্রামবাসীরা তাঁকে দ্বারিকনগর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা প্রদ্যুৎবাবুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, জলমগ্ন হয়ে পড়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক এলাকা। সাগর ও গোসাবায় যথাক্রমে ১৭২ ও ১২৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। রাজপুর-সোনারপুর, বারুইপুর, মহেশতলা ও বজবজ পুরসভার প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ড এদিন জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এদিন জলমগ্ন হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনায় বারাকপুর শিল্পাঞ্চলেরও বিস্তীর্ণ এলাকা। নৈহাটির মামুদপুর এলাকায় জল জমার কারণে বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখান। ব্যাপক বৃষ্টির কারণে উলুবেড়িয়ায় ফুলচাষে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টিতে উত্তর শহরতলির বি টি রোডের বড় অংশ কার্যত জলের তলায় চলে যায়।
এদিন উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে ১১৭.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। জলমগ্ন হয়ে পড়ে মধ্যমগ্রাম পুরসভার একাধিক ওয়ার্ড। ডানকুনি, শ্রীরামপুর, বৈদ্যবাটিসহ হুগলি জেলার কয়েকটি স্টেশনে স্রোতের মতো জল বয়ে যায়। তমলুক শহরের ৮, ১৪ ও ১৮নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গায় জলমগ্ন হয়ে পড়ে। পাঁশকুড়ায় কংসাবতী নদীতে জলস্তর বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। খড়্গপুরের গোলবাজার এলাকায় জল জমে ব্যাপক দুর্ভোগ বেড়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা-১ ও ২ ব্লক এলাকায় শিলাবতীর জল বেড়েছে। পূর্ব বর্ধমানে দিনভর ভারী বৃষ্টি হয়েছে। বীরভূম জেলায় সকাল থেকে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হয়। বাঁকুড়ায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। পুরুলিয়াতেও ভালো বৃষ্টি হচ্ছে। এদিন আরামবাগেও মুষলধারে বৃষ্টি হয়। দিনভর মাঝারি বৃষ্টি হয় মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলাতেও।