Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬

সুবিধা এক্সপ্রেস চালিয়ে ক্ষতি ৮১ কোটি টাকা, সংসদে পিএসি রিপোর্টে বিদ্ধ রেল

কমার্শিয়াল ডিপার্টমেন্টের পরামর্শ অমান্য। আর তাই ‘সুবিধা এক্সপ্রেস’ চালিয়ে কোটি কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে রেলকে।

সুবিধা এক্সপ্রেস চালিয়ে ক্ষতি ৮১ কোটি টাকা, সংসদে পিএসি রিপোর্টে বিদ্ধ রেল
  • ২৫ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কমার্শিয়াল ডিপার্টমেন্টের পরামর্শ অমান্য। আর তাই ‘সুবিধা এক্সপ্রেস’ চালিয়ে কোটি কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে রেলকে। এই ইস্যুতে এবার সংসদীয় কমিটি (পিএসি)-র কাঠগড়ায় উঠে এল রেলের দক্ষিণ পশ্চিম জোন। পর্যাপ্ত যাত্রী না হওয়া সুবিধা এক্সপ্রেস ট্রেনকে তৎকাল স্পেশাল কিংবা সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসে রূপান্তরিত না করার মাশুল দিতে হয়েছে প্রায় ৮১ কোটি টাকা। সম্প্রতি সংসদে পেশ করা রিপোর্টে এমনই উল্লেখ করেছে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জোনের ২০১৬ থেকে ২০২১ পর্যন্ত সময়সীমাকে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এই হিসেবে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে প্রতি বছর সুবিধা এক্সপ্রেসের কারণে রেলের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে গড়ে প্রায় ১৬ কোটি টাকা! 

Advertisement

রিপোর্টে ওই সংসদীয় কমিটি জানিয়েছে, পাঁচ বছরে এই ইস্যুতে রেলের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৮০ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা। আর এই প্রসঙ্গেই রেলের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের ইঙ্গিতও দিয়েছে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি। রিপোর্টে তারা স্পষ্টই সুপারিশ করেছে যে, রেলের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে যাতে যথাযথ সমন্বয় রক্ষিত হয়, তা সুনিশ্চিত করতে হবে মন্ত্রককে। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৪ সালে সুবিধা এক্সপ্রেস ট্রেন চালু করেছিল মোদি সরকার। এইসব ট্রেনে ‘ডায়নামিক ফেয়ার’ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি ১০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত হয়ে যাওয়ার পর সমহারে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে ট্রেনের টিকিট মূল্য। সুবিধা এক্সপ্রেস চালিয়ে ক্ষতির মুখে পড়ার জন্য এই ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’কেও অনেকাংশে দায়ী করা হয়েছে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির রিপোর্টে। 
সেইমতোই রিপোর্টে সুপারিশ করা হয়েছে, ডায়নামিক প্রাইসিংয়ের কাঠামো খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন ‘রি-অ্যাসেস’ করে দেখা প্রয়োজন রেলের। সংসদে পেশ করা রিপোর্টে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি তাৎপর্যপূর্ণভাবেই বলেছে, ট্রেনের টিকিটের মাত্রাতিরিক্ত বেশি ভাড়া রেল যাত্রীদের একাংশকে মুখ ফেরাতে বাধ্য করতে পারে। সেক্ষেত্রে রেল যাত্রীদের ওই অংশ যাতায়াতের উপায় হিসেবে বিমান পরিবহণ কিংবা অন্য কোনও বিকল্প বেছে নিতে চাইবেন। তা ভারতীয় রেল কোনওমতেই সামাল দিতে পারবে না। একইসঙ্গে সংসদীয় কমিটির উল্লেখ, সব ধরনের যাত্রীর কথা মাথায় রেখেই ট্রেন চালানো প্রয়োজন। তবে এর জবাবে রেলমন্ত্রক জানিয়েছে, সুবিধা ট্রেন চালিয়ে ‘অ্যাকচুয়াল আর্নিং’ এবং ‘পোটেনসিয়াল আর্নিং’য়ের মধ্যে তফাৎ রয়েছে। এই হিসেবে কোনও ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি দক্ষিণ পশ্চিম রেল। যদিও রেলের এহেন জবাবে মোটেও সন্তুষ্ট হয়নি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি।

সম্পর্কিত সংবাদ