


সংবাদদাতা, লালবাগ: কুম্ভমেলার পর ফিরিয়ে দেওয়া হবে এই প্রতিশ্রুতিতে বছরের শুরুতেই পূর্ব রেলের শিয়ালদহ-লালগোলা শাখা থেকে ছ’জোড়া শৌচাগার যুক্ত মেমু ট্রেন তুলে নেওয়া হয়েছিল। ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন যাত্রীরা। এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাতাযাত করতে হচ্ছিল। স্বাভাবিকভাবেই, শৌচাগারযুক্ত মেমু ট্রেন ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন সংগঠনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ সরব হয়েছিলেন। রেলের উচ্চ আধিকারিক থেকে স্টেশন সুপারিনটেন্ডেন্টকে ডেপুটেশন, অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি সংঘটিত হয়। অবশেষে শুক্রবার থেকে একজোড়া শৌচাগার যুক্ত মেমু ট্রেন ফিরিয়ে দেওয়া হল।
এদিন সকাল ৮.৩৫ মিনিটে ৬৩১০১ ডাউন লালগোলা-কলকাতা প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি লালগোলা থেকে ছাড়ে। অপরদিকে দুপুর ২.১০ মিনিটে ৬৩১০২ আপ কলকাতা-লালগোলা ট্রেনটি কলকাতা স্টেশন থেকে ছেড়ে আসে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়সূচিতেই ট্রেন দুটি চলবে বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে। শৌচাগার যুক্ত ট্রেন চালুর ফলে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক বেদ প্রকাশ বলেন, বৃহস্পতিবার রেলের পক্ষ থেকে নোটিফিকেশন দেওয়া হয়। এদিন থেকে একজোড়া মেমু ট্রেন চালু হল। ধাপে ধাপে বাকি পাঁচ জোড়া ট্রেনও চালু হবে।
পূর্ব রেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা শিয়ালদহ-লালগোলা। রেলপথে লালগোলা থেকে শিয়ালদহ ২২৭ কিমি যেতে সময় লাগে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। বর্তমানে ওই শাখায় এক্সপ্রেস মিলিয়ে মোট ১৭ জোড়া ট্রেন চলাচল করে। কুম্ভমেলার আগে ওই শাঝায় ৬ জোড়া কনভেনশনাল ট্রেন, ৫ জোড়া ইএমইউ এবং ৬ জোড়া মেমু ট্রেন চলাচল করত। কুম্ভমেলার নামে সব কটি মেমু ট্রেন তুলে নিয়ে পরিবর্তে ওই শাখায় তখন থেকে ইএমইউ ট্রেন চালানো শুরু হয়। প্রসঙ্গত, ইএমইউ ট্রেনে শৌচালয় থাকে না। ফলে একটু বেশি দূরত্ব যাত্রার ক্ষেত্রে যাত্রীরা সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে মহিলা ও বয়স্করা চরম ভোগান্তির শিকার হন।
ভগবানগোলার বাসিন্দা কেরামত শেখ বলেন, চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন ভোরের ট্রেনে মুর্শিদাবাদের লালগোলা, ভগবানগোলা সহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ কলকাতায় যান। শৌচালয় না থাকায় ওই দীর্ঘ পথ যেতে চরম সমস্যায় পড়তে হয়। এক জোড়া মেমু ট্রেন চালু হয়েছে শুনেছি। লালগোলার কেরামত শেখ বলেন, মেমু ট্রেন তুলে নেওয়ায় প্রায় এক বছর ধরে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন। এক জোড়া ট্রেন ফিরিয়ে দেওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরল।
মুর্শিদাবাদ ডিস্ট্রিক্ট রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার ফোরামের সম্পাদক আজমল হক বলেন, প্রতিদিন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ ট্রেনে চেপে তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছন। এক জোড়া মেমু ট্রেন ফেরানো হয়েছে। তবে এতে সমস্যা মিটবে না। আমাদের দাবি বাকি মেমু ট্রেনও ফিরিয়ে দিতে হবে।