


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: জালিয়াতি করে জাতিগত শংসাপত্র প্রাপকদের আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। এবার জাল শংসাপত্র নিয়ে চাকরিরতদেরও কড়া বার্তা দিলেন মন্ত্রী। ক্ষুদিরামবাবু বলেন, কেউ জাল শংসাপত্র নিয়ে সরকারি চাকরি করছেন প্রমাণ হলে কাজ থেকে বরখাস্ত করা হবে। ওই শংসাপত্র ইস্যু করা সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জাল এসটি শংসাপত্র নিয়ে এমবিবিএসে ভরতি হওয়া এক ছাত্রীর প্রসঙ্গ ওঠে। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই মন্ত্রী সকলকে সতর্ক করে দিয়েছেন। পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা ওই ছাত্রী ‘উত্তরবঙ্গ লবির’ সাহায্যে জাল এসটি শংসাপত্র জোগাড় করেছিল। সাধারণ শ্রেণিভুক্ত হওয়ার পরেও সে তফসিলি জাতির কোটায় এমবিবিএসে ভর্তি হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে বরখাস্ত করা হয়।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতিগত শংসাপত্র দেওয়ার আগে অনেক মাপকাঠি দেখে নেওয়া হয়। অন্যান্য নথির সঙ্গে পূর্বে পাওয়া পরিবারের কারও জাতিগত শংসাপত্রের প্রত্যয়িত নকল জমা দিতে হয়। তা দেখে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে প্রাথমিকভাবে তফসিলি জাতি বা উপজাতি শ্রেণিভুক্ত হিসাবে গণ্য করা হয়। বাকি মাপকাঠি পূরণ হলে আবেদনকারীকে চূড়ান্ত শংসাপত্র দেওয়া হয়। পরিবারের কারও শংসাপত্র না থাকলে সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কড়াকড়ি করা হয়। জালিয়াতি চক্রের পান্ডারা এই সুযোগকেই কাজে লাগাত বলে অভিযোগ। কীভাবে চলত উত্তরবঙ্গের ওই চক্র? জানা গিয়েছে, পরিবারের কোনো সদস্যের জাতিগত শংসাপত্র নেই, এমন আবেদনকারীকে শংসাপত্র বিভাগের কর্মীদের একাংশ চিহ্নিত করত। পরে তাদের আবেদনগুলিকে বাছাই করে অফিসের বাইরে বা কর্মীদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হত। সেখানেই চলত দর কষাকষি।