নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ট্রেনের টিকিটে প্রবীণদের কনসেশন বন্ধ দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে। মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন আয়ের রেল যাত্রীদের জন্যও সুরাহার বিশেষ নামগন্ধ নেই। বরং ট্রেনের টিকিট কাটতে গিয়ে সাধারণ রেল যাত্রীদের কার্যত নাভিশ্বাস উঠছে। অভিযোগের পাহাড় জমেছে মহার্ঘ ট্রেন যাত্রা নিয়ে। সেই অভিযোগই যেন প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল রেলমন্ত্রকের পেশ করা পরিসংখ্যানে। ফ্লেক্সি ফেয়ার, তৎকাল বা প্রিমিয়াম তৎকালের মতো ‘পরিষেবা’ প্রদান করে হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করেছে রেল। জানা গিয়েছে, গত পাঁচ বছরে শুধুমাত্র যাত্রী ভাড়া থেকেই রেলের আয় হয়েছে ২ লক্ষ ৩৯ হাজার ২৪১ কোটি টাকা। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, এর মধ্যে প্রায় ছ’শতাংশই এসেছে বেশি ভাড়ার টিকিট বিক্রি করে। অর্থাৎ, ফ্লেক্সি ফেয়ার, তৎকাল, প্রিমিয়াম তৎকাল টিকিট থেকে। পরিসংখ্যান বলছে, বিগত পাঁচ আর্থিক বছরে এর পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার ৬৩৬ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকা।
শুক্রবার রাজ্যসভায় রেলের আয় সংক্রান্ত লিখিত প্রশ্ন করেন সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস। জবাবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব লিখিতভাবে ওই পরিসংখ্যান পেশ করেছেন। যদিও ফ্লেক্সি ফেয়ার, তৎকাল এবং প্রিমিয়াম তৎকালের টিকিট থেকে আয় সংক্রান্ত খতিয়ান তিনি অঙ্কের হিসেবে দেননি। শতাংশের হিসেবে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২০১৯-২০ আর্থিক বছর থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ পর্যন্ত রেলের যাত্রী রাজস্ব বাবদ আয়ের ৫.৭ শতাংশই এসেছে ট্রেনের ফ্লেক্সি ফেয়ার, তৎকাল এবং প্রিমিয়াম তৎকাল টিকিট থেকে। আর এই হিসেবেই দেখা গিয়েছে যে, ওই পাঁচ বছরে বেশি ভাড়ার টিকিট বিক্রি করে রেলের সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি আয় হয়েছে।
রেলমন্ত্রীর পেশ করা খতিয়ান অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে রেলের যাত্রী রাজস্ব বাবদ আয়ের পরিমাণ ৫০ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ আর্থিক বছরে এর পরিমাণ যথাক্রমে ১৫ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা এবং ৩৯ হাজার ২১৪ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে যাত্রী রাজস্ব বাবদ রেলের আয় হয়েছে ৭০ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা।