সাঁইথিয়ায় নয়া ওভারব্রিজের কাজে গড়িমসি রেলের, ক্ষুব্ধ বণিকমহল
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বীরভূমের ‘বাণিজ্য নগরী’ হিসেবে সুপরিচিত সাঁইথিয়ায় শতাব্দীপ্রাচীন রেল ওভারব্রিজ ভেঙে ফেলা হয়েছে প্রায় চার বছর।যদিও নতুন ওভারব্রিজ নির্মাণের কাজ এখনও বিশ বাঁও জলে। সম্প্রতি এই দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটাতে তৎপর হয়েছে জেলা প্রশাসন। কিন্তু প্রশাসনের এই সদর্থক উদ্যোগের পরেও রেলের গড়িমসি ও উদাসীনতা নিয়ে ক্ষুব্ধ সাঁইথিয়ার বণিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। প্রশাসন সূত্রে খবর, ওভারব্রিজের নকশা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে রেলের একটি বিষয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। পুরানো নকশায় ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পার করে সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে যানজট আরও বাড়বে। এই দাবিতে আপত্তি তোলেন স্থানীয়রা। সমস্যা মেটাতে দিনকয়েক আগেই সাঁইথিয়া পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার অনির্বাণ মণ্ডল, রেলের ডেপুটি চিফ প্রজেক্ট ম্যানেজার (গতি শক্তি) অমৃশ মোহন, পিডব্লিউডি ইঞ্জিনিয়ার ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরা এলাকা পরিদর্শন করেন। রেলের এক কর্তা জানান, নির্দিষ্ট গাইডলাইন ও স্থানীয়দের দাবিকে মান্যতা দিয়ে ওভারব্রিজের দৈর্ঘ্য কিছুটা ছোটো করা হচ্ছে। পাশাপাশি দু’দিকে সার্ভিস রোড নির্মাণের জন্য প্রায় ৫৫ শতক জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। এগজিকিউটিভ অফিসার অনির্বাণ মণ্ডল বলেন, জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে। সার্ভিস রোড তৈরির তোড়জোড়ও শুরু হয়েছে। আমাদের তরফ থেকে আমরা কোনো খামতি রাখছি না। তবে প্রশাসনের এই তৎপরতা সত্ত্বেও রেল কবে কাজ শেষ করবে, তার  স্পষ্ট দিশা নেই। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে সাঁইথিয়া শহরের গুরুত্ব অপরিসীম। এই শহরের ঠিক মাঝখান দিয়ে চলে গিয়েছে হাওড়া-রামপুরহাট লুপ লাইন। যার সঙ্গে এসে মিশেছে অণ্ডাল-সাঁইথিয়া শাখাও। এই রেললাইনের একপাশে রয়েছে থানা, ব্লক হাসপাতাল, একাধিক স্কুল-কলেজ, মহাজনপট্টি, তেলকল, হিমঘর এবং শতাব্দীপ্রাচীন বিখ্যাত নন্দীকেশ্বরী মন্দির। অন্যপাশে রয়েছে পুরসভা ভবন, বাসস্ট্যান্ড-সহ যাবতীয় পাইকারি আড়ত ও বাজার। শহরের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ অংশের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম ও লাইফলাইন ছিল ওই পুরানো সেতু। কিন্তু সেতুটি ভাঙার পর থেকেই শহরের দু’প্রান্তের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।ফলে সাঁইথিয়ার সামগ্রিক ব্যবসায়িক কাঠামোয় ব্যাপক ধস নেমেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আক্ষেপ, ওভারব্রিজ না থাকায় বাইরের বড়ো ট্রাকচালকরা শহরে মাল নিয়ে ঢুকতে চাইছেন না। পাইকারি বাজার থেকে শুরু করে হিমঘর— সর্বত্রই ব্যবসায়িক মন্দা পরিস্থিতি। তাছাড়া, প্রতিদিন রুজিরুটির টানে যাতায়াত করা সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদেরও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।  শহরের ব্যবসায়ী মহলের দাবি, ভেবেছিলাম ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে রেলের কাজে গতি আসবে, কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন চোখে পড়ছে না। 

Advertisement