নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রেল স্টেশনে যাওয়ার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল। এই যন্ত্রণা নিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয় সাধারণ মানুষকে। যে কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। এই বেহাল রাস্তা সংস্কারের দাবিতে সোমবার সকালে রেল অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন নিত্যযাত্রী থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাটি ঘটেছে বারাসত-হাসনাবাদ শাখার ভাসিলা স্টেশনে। এর জেরে সপ্তাহের প্রথম দিনে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় মানুষকে। রেল পুলিস ও রেলের আধিকারিকরা বেহাল রাস্তা দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসত-হাসনাবাদ শাখায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন হল ভাসিলা। দেগঙ্গা-হাড়োয়া রোড ধরে আসা যায় ভাসিলা স্টেশনে। অফিস ও স্কুলের সময় বহু নিত্যযাত্রী ও ছাত্রছাত্রী ভাসিলা স্টেশন থেকে আপ এবং ডাউন ট্রেন ধরেন। ভাসিলা স্টেশন ও টিকিট কাউন্টারে যাওয়ার রাস্তার একাংশ রেলের। ওই অংশই দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল। খানাখন্দে ভরা। বৃষ্টিতে কোথাও কোথাও হাঁটু সমান জল জমছে। সাইকেল, বাইক নিয়ে যাতায়াত করতে সমস্যা হচ্ছে, এমনটাই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তাঁদের বক্তব্য, জীবনের ঝুঁকি নিয়েই যেতে হয় স্টেশনে। বাধ্য হয়ে রাস্তা ছেড়ে রেললাইন ধরে হেঁটে স্টেশনে পৌঁছতে হয় তাঁদের। রবিবার রাতে রেললাইন ধরে যাওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় জখম হয়েছেন এক মহিলা। তিনি এখন বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। যে কারণে ক্ষোভের পারদ চড়েছে স্থানীয়দের।
এর আগেও ওই বেহাল রাস্তা সংস্কারের দাবিতে নিত্যযাত্রী, হকার ও স্থানীয়রা বহুবার দরবার করেছেন রেলের কাছে। কিন্তু সুরাহা হয়নি। তাই, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় আপ ট্রেন আটকে অবরোধ শুরু করেন তাঁরা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে অবরোধ। পরে আরও দু’দফায় অবরোধ হয় ভাসিলা স্টেশনে। সব মিলিয়ে মোট তিন দফায় প্রায় ঘণ্টা দেড়েক ধরে অবরোধ চলে। পরে রেল পুলিস ও রেলের আধিকারিকরা এসে কথা বলেন অবরোধকারীদের সঙ্গে। তাঁরা বেহাল রাস্তা দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা। অবরোধকারী মিজানুর রহমান ও সুনীতি কর্মকার বলেন, ভাঙা রাস্তার কারণে স্টেশনে পৌঁছনোই আমাদের দায় হয়ে উঠেছে। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। আগের রাতেও এক মহিলা জখম হয়েছেন। আমরা চাই, রেল কর্তৃপক্ষ দ্রুততার সঙ্গে ওই রাস্তা সংস্কার করুক। এ নিয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তময় দত্ত বলেন, এনিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।