নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দূরপাল্লার বা লোকাল ট্রেনে মহিলাদের উপর অপরাধ ঘটলে জিআরপি থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় অভিযোগকারিণীকে। এমনও অভিযোগ ওঠে, মহিলার বয়ান নিতে গড়িমসি করেছে রেল পুলিশ। মহিলা অফিসারের অভাবে তদন্তও ঠিকমতো এগোয় না। মহিলাঘটিত অপরাধের তদন্তে যাতে কোনো গাফিলতি না থাকে তার জন্য আলাদা মহিলা থানা গড়তে চাইছে রেল পুলিশ। ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব নবান্নে গিয়েছে বলে খবর।
মহিলা ঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে রাজ্য। এই ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে থানাগুলিকে। মহিলারা এসে যাতে অভিযোগ করতে পারেন সেজন্য প্রতিটি থানায় চালু হয়েছে মহিলা হেল্প ডেস্ক। ঘটনা লিপিবদ্ধ হওয়ার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হল সেটিও জানাতে হবে অভিযোগকারিণীকে। একইসঙ্গে মহিলাঘটিত অপরাধের তদন্ত করার জন্য তৈরি হয়েছে মহিলা থানা। কিন্তু রেল পুলিশে কোনো মহিলা থানা নেই। অথচ রেলে মহিলা যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রেল পুলিশের কর্তারা। মহিলা থানার অভাবে ট্রেনে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির মতো ঘটনার তদন্ত ঠিকমতো হয় না। সে-কথা মাথায় রেখেই হাওড়া, শিয়ালদহ, খড়্গপুর ও শিলিগুড়ি মিলিয়ে চারটি রেল পুলিশ জেলায় চারটি মহিলা থানা গড়ে তোলার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে খবর। রেল পুলিশের সদর দপ্তরে এই থানাগুলি তৈরি করা হবে। অভিযোগকারিণী এখানে এসে সরাসরি অভিযোগ করতে পারবেন। তার ভিত্তিতে হবে তদন্ত। পরে সমস্ত জিআরপি থানার অধীনে একটি করে মহিলা থানা গড়ে তোলার ভাবনাচিন্তা রয়েছে।
একইসঙ্গে জিআরপিতে সাইবার জালিয়াতির একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। কিন্তু প্রশিক্ষিত পুলিশ কর্মী ও পরিকাঠামো না-থাকায় সাইবার অপরাধের তদন্ত ঠিকমতো এগোয় না। এই সুযোগে প্রতারণার টাকা সরিয়ে ফেলে দুষ্কৃতীরা। এই কেসগুলি সিআইডি বা সাইবার ক্রাইম উইংকে দিতে হয় তদন্তের জন্য। সাইবার অপরাধের তদন্ত ঠিকমতো করার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন চারটি সাইবার থানা তৈরির প্রস্তাবও গিয়েছে। এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়ে গেলে তা দ্রুত বাস্তবায়িত হবে বলেই আশাবাদী রেল পুলিশের কর্তারা।