দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: দুর্ঘটনারোধী ‘কবচ’ প্রযুক্তির বাস্তবায়নে রেল বোর্ডের দায়সারা মনোভাব আরও স্পষ্ট হয়ে গেল। ভারতীয় রেলের তামাম নেটওয়ার্ক জুড়ে ‘কবচ’ প্রযুক্তির রূপায়ণ তো দূর! যে জোনের আওতায় দেশের প্রথম হাইস্পিড বুলেট ট্রেন চালানো হবে, সেই পশ্চিম রেলের কোনও অংশেই এখনও পর্যন্ত ‘কবচ’ প্রযুক্তি কার্যকর করেনি রেলমন্ত্রক। সাম্প্রতিক এক আরটিআইয়ের জবাবেই এহেন উদ্বেগজনক ছবি সামনে এসেছে। এর ফলে চালুর আগেই আমেদাবাদ-মুম্বই বুলেট ট্রেনের যাত্রী সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি রেলের ওয়েস্টার্ন জোনের কাছে ‘কবচ’ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়ে তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইনে আবেদন করেছিলেন মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা চন্দ্রশেখর গৌড়। তাঁর প্রশ্ন ছিল, এই মুহূর্তে ওয়েস্টার্ন রেলওয়েতে কত লোকোমোটিভ এবং কত কিলোমিটার রেলওয়ে ট্র্যাকে ‘কবচ’ প্রযুক্তি কার্যকর হয়েছে? এই আরটিআইয়ের জবাবে পশ্চিম রেল একটি শব্দে উত্তর দিয়েছে, ‘জিরো’।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই ‘কবচ’ প্রযুক্তি নিয়ে একাধিক গালভরা ঘোষণা করে চলেছে রেলমন্ত্রক। কিন্তু তা যে আক্ষরিক অর্থেই অন্তঃসারশূন্য, তার প্রমাণ প্রথম মেলে বছর কয়েক আগেই বালেশ্বরে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর। এই তথ্যই সামনে চলে আসে যে, ‘কবচ’ কার্যকরের ব্যাপারে কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিই ঘটাতে পারেনি রেল বোর্ড। মন্ত্রকের তথ্য বলছে, এখনও পর্যন্ত দক্ষিণ-মধ্য রেলের দেড় হাজার কিলোমিটারেরও কম রেলওয়ে ট্র্যাকে শুধুমাত্র ‘কবচ’ প্রযুক্তি কার্যকর হয়েছে। এর অর্থ, ভারতীয় রেল নেটওয়ার্কের বিস্তীর্ণ অংশ এখনও ‘কবচ’ প্রযুক্তি কার্যকরের নিরিখে অসুরক্ষিতই রয়েছে। রেলমন্ত্রক অবশ্য সংসদে জানিয়েছে যে, এখনও পর্যন্ত ‘কবচ’ প্রযুক্তির বাস্তবায়নে ১ হাজার ৯৫০ কোটি টাকার কাজ করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ১ হাজার ১১২ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা। যদিও তাতে রেল যাত্রীদের আতঙ্ক কাটছে কি?