


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: কেউ রেলে চাকরি করেন, কেউ রেলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। তা সত্ত্বেও গোটা পরিবারের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। আবার নোটিস ছাড়াই কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। শনিবার প্রখর রোদের মধ্যে রামপুরহাটের ট্রাইবুনালের লাইনে দাঁড়িয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন। এতে যেমন তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে, তেমনি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।
রামপুরহাট পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মামনি মাল ২০২৪ সালে ভোটার তালিকায় নাম তোলেন। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর পর্বে খসড়া তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় সমস্যায় পড়েছেন তিনি। মামনি বলেন, কোনো ভুল থাকলে তো নোটিস পেতাম। কিন্তু নোটিস ছাড়াই নাম বাদ দেওয়া হল। নাম না থাকলে ভোটের অধিকার হারানো ছাড়াও রেশন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সহ অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তার তালিকা থেকেও নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, রেলের ট্রলিম্যান পদে চাকরি করেন রামপুরহাটের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নরেশ কাহার। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রেলে চাকরি করার পরও আমার নাম বিচারাধীন ছিল। চাকরির কাগজপত্র সহ সমস্ত নথি দিয়ে আবেদন করি। কিন্তু, সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় বাদ দেওয়া হল। আমার কাছে যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। চাকরি নিয়ে চিন্তায় আছি। রামপুরহাট-২ নম্বর ওয়ার্ডের অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী আব্দুল নসিব এদিন ট্রাইবুনালের লাইনে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার বাবাও রেল কর্মী ছিল। আমরা বরাবর এখানকার ভোটার। ২০০২ সালে বাবা ঝাড়খণ্ডে পোস্টিং ছিলেন। ফের রামপুরহাটে চলে আসি। এসআইআরে স্ত্রী, ছেলে, বৌমা ও আমাকে বিচারাধীন দেখানো হয়। সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় সকলের নাম বাদ দেওয়া হল। তিনি বলেন, ঝাড়খণ্ডের ভোটার তালিকা সহ সমস্ত নথি দিয়ে আবেদন করার পরও এই অবস্থা। তাঁর অভিযোগ, বহু প্রকৃত ভোটারের নাম কাটা গিয়েছে। যাচাইয়ের কাজ নিয়ে সংশয় রয়েছে। তীব্র রোদ উপেক্ষা করে রামপুরহাটে ট্রাইবুনালের লাইনে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ এখন তাঁদের অধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াই করছেন।