Bartaman Logo
৬ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রায়গঞ্জ: মন্ত্রীর পাড়ায় জমা জল পরিষ্কারে এল দমকল

রাজ্যের দমকল প্রতিমন্ত্রীর পাড়ার জমা জল পরিস্কার করতে পথে নামাতে হল দমকলের ইঞ্জিন! শহরের উকিল পাড়ায় মন্ত্রীর পাড়ায় জমা জল বের করতে বুধবার দমকলের ইঞ্জিনকে রীতিমতো কসরৎ করতে দেখা গিয়েছে।

রায়গঞ্জ: মন্ত্রীর পাড়ায় জমা জল পরিষ্কারে এল দমকল
  • ৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: রাজ্যের দমকল প্রতিমন্ত্রীর পাড়ার জমা জল পরিস্কার করতে পথে নামাতে হল দমকলের ইঞ্জিন! শহরের উকিল পাড়ায় মন্ত্রীর পাড়ায় জমা জল বের করতে বুধবার দমকলের ইঞ্জিনকে রীতিমতো কসরৎ করতে দেখা গিয়েছে। দিনকয়েক বিরতি দিয়ে ফের ভারী বৃষ্টি হয়েছে রায়গঞ্জ শহরে। তার জেরে মঙ্গলবার রাত থেকে শহরের উকিল পাড়া, বীরনগর, রবীন্দ্র পল্লী, সাঁওতাল পাড়া, উত্তর কলেজপাড়া, শিল্পীনগর সহ রায়গঞ্জ পুরসভা এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের গলিপথ, বড় রাস্তায় জল জমেছে। ড্রেন উপচে রাস্তায় জল দাঁড়িয়ে গিয়েছে। বহু মানুষের বাড়িতে জল ঢুকেছে। বাদ যায়নি রাজ্যের শিক্ষা, দমকল ও জরুরী পরিষেবা দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরীর ওয়ার্ডও। এই অবস্থায় জল জমার সমস্যা মেটাতে ফের ময়দানে ঝাঁপাতে হয় দমকল বাহিনীকে। বুধবার রায়গঞ্জ স্টেশনের পাশে মন্ত্রীর ওয়ার্ডে উকিলপাড়ায় দু’টি পাম্প সেট চালিয়ে জমা জল সরানোর কাজ চলে।  যাতে ওই এলাকার কয়েকশো পরিবার জল যন্ত্রনা থেকে রেহাই পান। 

Advertisement

রায়গঞ্জ দমকল কেন্দ্র সূত্রে খবর, দমকল বাহিনী শুধুমাত্র আগুন নেভানোতেই নয়, জরুরি পরিস্থিতিতে জমা জল নিষ্কাশন সহ বিভিন্ন আপদকালীন কাজ করে। এদিন ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের রায়গঞ্জ স্টেশন লাগোয়া উকিলপাড়ায় জমা জল বের করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দু’টি পাম্প সেটকে  কাজে লাগিয়ে কয়েক ঘন্টার চেষ্টায় জল নামানো গিয়েছে।
এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, ফি বছর শহরের অন্যতম ব্যস্ত ওয়ার্ড উকিলপাড়ায় বৃষ্টির সময় জল জমার সমস্যা তৈরি হয়। বিগত দিনে পুর কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও সমস্যা মিটতো না।
প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী কলকাতা থেকে ফোনে জানান, বিগত পুর বোর্ড বিদায় হলেও সেই বোর্ডের পাপের ফল ভুগতে হচ্ছে রায়গঞ্জ শহরবাসীকে। দীর্ঘ দিন ধরে পুরসভা পরিচালনা করলেও বিগত বোর্ড জল নিকাশির কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা করেনি। নিকাশির জন্য কোনো প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনেনি। পুরসভায় একটা মাত্র পাম্প সেট রয়েছে। যা দিয়ে গোটা শহরের জল জমার সমস্যা মেটানো যাচ্ছে না। উল্টে শহরে একের পর এক পুকুর, জলাশয় ভরাট হয়ে গিয়েছে। আমরা সাময়িকভাবে সমস্যা মেটাতে দমকলকে ব্যবহার করছি। তার যন্ত্রাংশকে কাজে লাগিয়ে সমস্যা মেটাচ্ছি। এর আগে শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের অশোকপল্লীতে এই কাজ হয়েছে। কিন্তু শহরের নিকাশিতে স্থায়ী সমাধানের জন্য ভরাট হওয়া পুকুরের ব্যাপারে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা ওই সমস্যার সমাধান করবো। 
উকিলপাড়ার গৃহবধূ সোনালী পাল বলেন, আমাদের বিধায়ক কৌশিক চৌধুরী উদ্যোগী হওয়ায় জমাজল থেকে দ্রুত রেহাই মিলল। না হলে কয়েক সপ্তাহ ধরে এলাকায় জল জমে থাকতো। 
এদিকে, শুধু ১৪ নম্বর ওয়ার্ড নয়, শহরের বীরনগর, রবীন্দ্র পল্লী, সাঁওতাল পাড়া, উত্তর কলেজপাড়া, শিল্পী নগর সহ বেশ কিছু ওয়ার্ডে জমাজল নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যার জন্য ধাপে ধাপে পুরসভা ও দমকল লাগাতার কাজ করছে। 
• নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ