নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: চলতি বছরে নিট-ইউজি পরীক্ষা নিয়ে এমনিতেই নাজেহাল মোদি সরকার। তারই মধ্যে সামনে এসেছে সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় মূল্যায়ন সংক্রান্ত গোলযোগের গুরুতর অভিযোগ। সবমিলিয়ে রীতিমতো চাপে শিক্ষামন্ত্রক। নিত্যদিন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। এরই মধ্যে সোমবার আগুন লাগল আপাতত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সেই শিক্ষামন্ত্রকের দপ্তরেই। পুড়ে গিয়েছে কি নিট-ইউজি, সিবিএসই তদন্ত সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র? এদিন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই এহেন প্রশ্নে চর্চা তুঙ্গে উঠেছে।
যদিও শিক্ষামন্ত্রকের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে যাবতীয় জল্পনায় কার্যত জল ঢেলে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, তাদের অফিসে আদৌ কোনো আগুন লাগেনি। অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে অন্যত্র। দিল্লির স্কুল অব প্ল্যানিং অ্যান্ড আর্কিটেকচারের (এসপিএ) কার্যালয়ে আগুন লেগেছে। এসপিএর কার্যালয় আইটিওর বিকাশ মার্গে। অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রকের বর্তমান ঠিকানা ডঃ রাজেন্দ্রপ্রসাদ রোডের কর্তব্যভবন। দু’য়ের মধ্যে দূরত্বও অনেকটাই! তবে একইসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে দিয়েছে, এসপিএ কার্যালয়ে আগুন লাগলেও কোনো সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি। স্বাভাবিকভাবেই শহরের একটি অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে যেভাবে দিনভর বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে, চলতি পরিস্থিতিতে তা যথেষ্টই উল্লেখযোগ্য বলেই মনে করা হচ্ছে। এর ফলে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে জল্পনাও। প্রসঙ্গত, এসপিএ সম্পূর্ণভাবে শিক্ষামন্ত্রকের আওতাধীন। এবং পদাধিকার বলে এসপিএ কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন স্বয়ং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। এদিন সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ এসপিএর একজন কর্মী দোতলার একটি ঘর থেকে আগুনের শিখা এবং ধোঁয়া বের হতে দেখে খবর দেন দমকল বিভাগে। দমকলের আটটি ইঞ্জিন এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
এদিনের অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে নিট-ইউজি পরীক্ষা কিংবা সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার মূল্যায়ন সংক্রান্ত গোলযোগের কোনো সম্পর্ক নেই বলে শিক্ষামন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রে দাবি করা হয়েছে ঠিকই। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে সোমবারও মোদি সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। রবিবার ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন ধরনের আমের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন কটাক্ষ করে কংগ্রেস সাংসদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর আম নিয়ে কথা বলার সময় রয়েছে। কিন্তু সিবিএসই পরীক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে বলার সময় নেই। একইসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তাঁর কটাক্ষ, ‘পকেটমার হইতে সাবধান! ইদানীং তারা সিবিএসইর মধ্যেই বসে আছে। শুধুমাত্র নিজের উত্তরপত্র ঠিকমতো মূল্যায়নের জন্য একজন পরীক্ষার্থীকে অন্তত দু’হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হবে। চার লক্ষ পরীক্ষার্থীর আবেদনে সিবিএসই-র আয় কত হচ্ছে? ফোনে স্ক্যান হলে ভুল হবেই। ভুল করছে সিবিএসই। শাস্তি পাচ্ছে পড়ুয়ারা। আয় হচ্ছে সরকারের।’ রাহুলের তোপ, ‘শিক্ষা যখন ব্যবসায় পরিণত হয়, তখন এমনই ঘটে। শিকার হয় পড়ুয়ারা।’