Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ইডেনে অজি-বধের ২৫ বছর, আবেগাপ্লুত দ্রাবিড়-লক্ষ্মণ

ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে স্মরণীয় মুহূর্তের অভাব নেই। সেই তালিকায় উপরের দিকেই থাকবে ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ইডেন টেস্টে জয়।

ইডেনে অজি-বধের ২৫ বছর, আবেগাপ্লুত দ্রাবিড়-লক্ষ্মণ
  • ১৪ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে স্মরণীয় মুহূর্তের অভাব নেই। সেই তালিকায় উপরের দিকেই থাকবে ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ইডেন টেস্টে জয়। ঠিক ২৫ বছর আগে স্টিভ ওয়ার দলকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল গঙ্গাপাড়ের নন্দনকাননে। ফলো-অনের কবলে পড়েও জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল সৌরভ-ব্রিগেড। আর তার নেপথ্যে ছিল রাহুল দ্রাবিড় ও ভিভিএস লক্ষ্মণের মহাকাব্যিক ইনিংস। টিম ইন্ডিয়ার অবিশ্বাস্য প্রত্যাঘাতে মুখ থুবড়ে পড়েছিল টানা ১৬ ম্যাচ জিতে আসা অজিদের অশ্বমেধের ঘোড়া। বিদেশীদের বিরুদ্ধে কুঁকড়ে যাওয়ার ভীতি কাটিয়ে নেতা সৌরভ শিখিয়েছিলেন প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের কৌশল। ট্যাকটিক্যাল দ্বৈরথে স্টিভ ওয়াকে কুপোকাত করে ভারতীয় ক্রিকেটে ফেরান বিশ্বাস। গড়াপেটার ধাক্কায় বিপর্যস্ত সমর্থকদের মনেও জাগে নতুন আশা।

Advertisement

কাজটা মোটেই সহজ ছিল না। প্রথমে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া তোলে ৪৪৫। জবাবে ভারত থেমে যায় ১৭১ রানে। ফলো-অন করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩২ রানে পড়ে যায় চার উইকেট। এরপরেই দ্রাবিড় ও লক্ষ্মণের সেই রূপকথার ইনিংস। পঞ্চম উইকেটে তাঁরা যোগ করেন ৩৭৬, যা ১৭১ রানে জয়ের ভিত গড়ে দেয়। লক্ষ্মণ অপরাজিত থাকেন ২৮১ রানে। দ্রাবিড়ের সংগ্রহ ১৮০। ১১ মার্চ শুরু হওয়া সেই টেস্টের রজতজয়ন্তী স্বাভাবিকভাবেই ফ্ল্যাশব্যাকে ফেরাচ্ছে ম্যাচের দুই নায়ককে। এক সাক্ষাৎকারে দ্রাবিড় বলেছেন, ‘লক্ষ্মণের সঙ্গে ব্যাটিং বরাবর উপভোগ করেছি। ও অসাধারণ ব্যাটসম্যান। ওর ব্যাটিং দেখার জন্য নন-স্ট্রাইকার এন্ডে থাকার চেয়ে ভালো জায়গা হয় না। মন ভরে গিয়েছিল সেদিন। লক্ষ্মণের জন্য আমার কাজও সহজ হয়েছিল।’
সেই সময় অস্ট্রেলিয়া ছিল প্রবল প্রতাপশালী। স্টিভের দলের বোলিং বিভাগে ছিলেন ওয়ার্ন, ম্যাকগ্রাথ, গিলেসপিরা। ব্যাটিংয়ে হেডেন, স্ল্যাটার, ল্যাঙ্গার, মার্ক ওয়া, পন্টিং, গিলক্রিস্ট। এমন শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অনবদ্য দ্বিশতরান সম্পর্কে লক্ষ্মণ বলেছেন, ‘মারাত্মক এনার্জি অনুভব করছিলাম ইনিংসটা চলার সময়। ড্রেসিং-রুমও টগবগ করছিল। যারা ড্রিংকস নিয়ে মাঠে আসছিল, তারাও উৎসাহ জোগাচ্ছিল। আর ইডেনের ক্রিকেটপ্রেমীদের তো কোনও তুলনা হয় না। পুরো মাঠ গর্জন করছিল। এই চিৎকার আরও রাগিয়ে দেয় অজিদের। আর আমরা সেটা দারুণ উপভোগ করছিলাম।’
ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ৬৫৭ রান তুলে ডিক্লেয়ার করে। অস্ট্রেলিয়ার সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ৩৮৪ রানের। হরভজন সিংয়ের বিষাক্ত স্পিনে ২১২ রানে গুঁড়িয়ে যায় সফরকারী দল। ম্যাচে ভাজ্জির শিকার ১৩ উইকেট। আবেগঘন স্মৃতিচারণায় লক্ষ্মণ বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া সেই সময় সাংঘাতিক শক্তিশালী দল। তাই আমাদের মনে হয়েছিল, চারশোর কাছাকাছি টার্গেট দেওয়া উচিত। ফলো-অনের পর ওদের হারানোর তাৎপর্যই ছিল আলাদা। ভারতীয় ক্রিকেটের পক্ষে সেই ম্যাচটা ছিল স্পেশাল। চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকেও যে আমরা ঘুরে দাঁড়া঩তে পারি, সেই বিশ্বাসের জন্ম দিয়েছিল ইডেনের ঐতিহাসিক জয়।’

সম্পর্কিত সংবাদ