সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: চক ও ব্ল্যাকবোর্ডের বদলে এবার প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলেও পড়াশোনা হবে স্মার্ট বোর্ডের স্ক্রিনে। মঙ্গলবার রঘুনাথপুর-২ ব্লকের মঙ্গলদা বিএনজে উচ্চবিদ্যালয় এবং মৌতড় মানদাসুন্দরী উচ্চবিদ্যালয়কে ডিভিসির তরফে স্মার্ট বোর্ড উপহার দেওয়া হল। পুরুলিয়া জেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সরকারি স্কুলে আধুনিক শিক্ষার পরিকাঠামো পৌঁছে দিতে ডিভিসির রঘুনাথপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের তরফে এলাকার ১৫টি সরকারি স্কুলে স্মার্ট বোর্ড দেওয়া হবে।
এদিন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ দু’টি বিদ্যালয়কে অত্যাধুনিক স্মার্ট বোর্ড দিয়েছে। অনুষ্ঠানে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এইচওপি অভিজিৎ ঘোষ, আধিকারিক কে. পি. বন্দ্যোপাধ্যায়, সোমনাথ দত্ত সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে কঠিন কাজকে সহজ করে ফেলছে। এতে শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এসেছে। তবে পরিকাঠামো ও আর্থিক সংকটের কারণে সরকারি বিদ্যালয়গুলি এতে পিছিয়ে রয়েছে। তাই রঘুনাথপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তরফে এলাকার শিক্ষা পরিকাঠামোর উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ করা হয়েছে। এলাকার বিভিন্ন সরকারি স্কুলকে স্মার্ট বোর্ড দেওয়া হচ্ছে। এই স্মার্ট বোর্ডের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ডিজিটাল ও ইন্টার্যাকটিভ পদ্ধতিতে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। ফলে পঠন-পাঠন আরও আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বিজ্ঞান সহ বিভিন্ন বিষয়ের পাঠদান আরো সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিন আধিকারিকেরা মঙ্গলদা উচ্চবিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও জীববিদ্যার ল্যাব পরিদর্শন করেন। সেগুলি দেখে প্রশংসা করেন। শিক্ষার পরিকাঠামো সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এলাকার ১৫টি সরকারি বিদ্যালয়ে স্মার্ট বোর্ড দেওয়া হবে। এর ফলে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু ছাত্রছাত্রী আধুনিক স্মার্ট ক্লাসরুমের সুবিধা পেতে চলেছে।
অভিজিৎবাবু বলেন, শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের ভালোভাবে গাইড দিলে ভালো মনের মানুষ হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহার ছাত্রছাত্রীদের স্মার্ট করবে। কারণ, বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে। পড়াশোনা এখন শুধু ব্ল্যাকবোর্ড আর খাতায়-কলমে সীমাবদ্ধ নেই। স্মার্ট যুগে স্মার্ট ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে। তাই আপাতত এলাকার ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার মানোন্নয়নে ১৫টি বিদ্যালয়কে স্মার্ট বোর্ড দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও বিদ্যালয়গুলির তরফে আমাদের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী ১৫টি বিদ্যালয় নির্বাচন করে স্মার্ট বোর্ড দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলদা বিদ্যালয়ের টিআইসি নন্দলাল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, স্মার্টবোর্ডটি পেয়ে আমরা অনেক উপকৃত হলাম। এবার প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার নতুন দিগন্ত খুলতে চলেছে।